যুক্তরাজ্যের সদ্য পদত্যাগী প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পরবর্তী উত্তরসূরিকে গাজা যুদ্ধ নিয়ে সরকারের নীতিতে মৌলিক পরিবর্তন আনার আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক লেবার নেতা জেরেমি করবিন। আল জাজিরায় প্রকাশিত এক মতামত নিবন্ধে তিনি অভিযোগ করেন, স্টারমারের সরকার গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা অব্যাহত রেখে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েছে।
করবিনের দাবি, স্টারমার ক্ষমতায় থাকাকালে ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র রপ্তানি অব্যাহত ছিল এবং কিছু লাইসেন্স স্থগিত করা হলেও এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের যন্ত্রাংশ সরবরাহ বন্ধ করা হয়নি। পাশাপাশি সাইপ্রাসে যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্সের আকরোতিরি ঘাঁটির কার্যক্রম নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন এবং গাজা-সংক্রান্ত সামরিক সহায়তায় ব্রিটেনের ভূমিকার স্বাধীন তদন্তের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে যেভাবে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, একই ধরনের পদক্ষেপ ইসরায়েলের ক্ষেত্রেও গ্রহণ না করায় ব্রিটিশ সরকারের নীতিতে দ্বৈত মানদণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে তিনি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা, অস্ত্র রপ্তানি বন্ধ এবং গাজা ইস্যুতে যুক্তরাজ্যের ভূমিকা তদন্তে একটি স্বাধীন পাবলিক ইনকোয়ারি গঠনের আহ্বান জানান।
স্টারমারের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে আলোচনায় থাকা অ্যান্ডি বার্নহ্যামের প্রতি করবিন আহ্বান জানিয়ে বলেন, নতুন নেতৃত্বের উচিত সামরিক ব্যয় বাড়ানোর পরিবর্তে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং জনকল্যাণমূলক খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো। একই সঙ্গে সম্পদ বৈষম্য কমাতে সম্পদ কর, ভাড়া নিয়ন্ত্রণ এবং গুরুত্বপূর্ণ খাতে বেসরকারিকরণ নীতির অবসান ঘটানোরও পরামর্শ দেন তিনি।
উল্লেখ্য, এটি জেরেমি করবিনের ব্যক্তিগত মতামতভিত্তিক নিবন্ধ। এতে উত্থাপিত অভিযোগ ও মূল্যায়ন তাঁর নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থানকে প্রতিফলিত করে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অবস্থান বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য হিসেবে উপস্থাপিত নয়।
















