বাংলাদেশের দুর্বল প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করছে এবং কর আদায়ে বছরে বিপুল রাজস্ব ক্ষতির কারণ হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটি বলেছে, টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনে কর প্রশাসন, সরকারি ক্রয়, নিরীক্ষা ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে দ্রুত সংস্কার জরুরি।
ঢাকায় ‘স্ট্রেনদেনিং ইনস্টিটিউশনস ফর ট্রান্সপারেন্সি অ্যান্ড অ্যাকাউন্টেবিলিটি (সিটা)’ প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান বিষয়ক কান্ট্রি ডিরেক্টর জ্যাঁ পেসমে বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত ছিল মাত্র ৬.৯ শতাংশ, যা উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় ১৫ শতাংশের অর্ধেকেরও কম। বর্তমানে সরকারি রাজস্বের প্রায় ৭০ শতাংশ আসে পরোক্ষ কর থেকে, যা সংকীর্ণ ও বৈষম্যমূলক কর কাঠামোর প্রতিফলন।
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে গড়ে প্রায় ৩০ শতাংশ ব্যয় বৃদ্ধি এবং বাস্তবায়নে প্রায় তিন বছরের বিলম্ব ঘটে। এছাড়া অবকাঠামোর মানের সূচকে বাংলাদেশ ১৩৭ দেশের মধ্যে ১১৬তম অবস্থানে রয়েছে। সংস্থাটি মনে করে, দুর্বল সরকারি ক্রয় ও বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনার কারণে অবকাঠামো উন্নয়ন ও জনসেবার মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বিশ্বব্যাংক ২৫ কোটি ডলারের ঋণে পরিচালিত ‘সিটা’ প্রকল্পের মাধ্যমে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস), বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ), মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় এবং পরিকল্পনা বিভাগকে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এর মাধ্যমে কর আদায় বৃদ্ধি, সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা, ক্রয় প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং নিরীক্ষা ব্যবস্থার জবাবদিহি শক্তিশালী করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর সংস্কারের মাধ্যমে সরকারি প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়াতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাঁর মতে, রাজস্ব প্রশাসন, সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনা, নিরীক্ষা, ক্রয় এবং উন্নয়ন পরিকল্পনায় ডিজিটাল রূপান্তর দুর্নীতি, সরকারি অর্থের অপব্যবহার ও অর্থপাচার রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
















