চীনের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দেশটি নীরবে তার পারমাণবিক অবকাঠামো বড় আকারে সম্প্রসারণ করছে, যা বৈশ্বিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।
স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, সিচুয়ান প্রদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা—‘সাইট ৯০৬’—এ ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। কয়েক বছর আগে যেখানে গ্রাম ছিল, এখন সেখানে উন্নত স্থাপনা, সুরক্ষিত অবকাঠামো এবং পারমাণবিক উপকরণ ব্যবস্থাপনার জন্য বিশেষ সুবিধা তৈরি করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন নির্মাণগুলোর মধ্যে বড় আকারের সুরক্ষিত গম্বুজ, বিকিরণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং জটিল পাইপলাইন নেটওয়ার্ক রয়েছে, যা ইউরেনিয়াম ও প্লুটোনিয়ামের মতো তেজস্ক্রিয় উপাদান ব্যবহারের ইঙ্গিত দেয়। এসব পরিবর্তন চীনের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর দিকেই ইঙ্গিত করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন, চীন তার পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচিকে দ্রুত আধুনিকায়ন করছে। যদিও বেইজিং দাবি করে, তারা “আত্মরক্ষামূলক” নীতি অনুসরণ করে এবং প্রথমে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবে না।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের গোপন অবকাঠামো সম্প্রসারণ চীনের কৌশলগত সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে পারে। বর্তমানে চীনের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার তুলনায় ছোট হলেও, এটি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে নতুন করে বৈশ্বিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরুর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি চীনের সক্ষমতাকে অতিরিক্তভাবে মূল্যায়ন করে, তাহলে তা আরও বড় সামরিক প্রতিযোগিতার জন্ম দিতে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে বিদ্যমান অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি দুর্বল হয়ে পড়ায়, নতুন কোনো বহুপাক্ষিক চুক্তিতে চীনকে অন্তর্ভুক্ত করার আলোচনা জোরদার হচ্ছে। তবে চীনের বর্তমান পদক্ষেপ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তারা সহজে এই ধরনের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় যুক্ত হতে আগ্রহী নাও হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতসহ বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি চীনকে আরও শক্তিশালী প্রতিরক্ষা প্রস্তুতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
সব মিলিয়ে, চীনের এই নীরব কিন্তু বিস্তৃত পারমাণবিক সম্প্রসারণ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
















