যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের প্রতি সামরিক সহায়তা ভবিষ্যতে আরও স্থায়ী ও পরিবর্তন-অযোগ্য কাঠামোর মধ্যে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সমালোচকদের মতে, এ ধরনের আইন পাস হলে ভবিষ্যতের প্রেসিডেন্ট ও কংগ্রেসের জন্য ইসরায়েলকে দেওয়া সামরিক সহায়তা পুনর্বিবেচনা করা অনেক কঠিন হয়ে পড়বে এবং পররাষ্ট্রনীতিতে গণতান্ত্রিক জবাবদিহিও দুর্বল হতে পারে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে ২০১৮ সালে কার্যকর হওয়া ১০ বছরের সমঝোতা স্মারকের আওতায় ৩৮ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা কর্মসূচি ২০২৮ সালে শেষ হওয়ার কথা। বিশ্লেষকদের মতে, এই সময় নতুন করে সহায়তার প্রয়োজনীয়তা, শর্ত এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত বাস্তবতা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা থাকলেও তার পরিবর্তে সহায়তাকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাজেটের সঙ্গে যুক্ত কিছু ধারা ইসরায়েলের সামরিক প্রযুক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা, অস্ত্র উন্নয়ন ও উৎপাদন ব্যবস্থার সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে আরও গভীরভাবে যুক্ত করবে। পাশাপাশি গোয়েন্দা সহযোগিতাও আইনি বাধ্যবাধকতার আওতায় এনে ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্টের তা সীমিত করার ক্ষমতা সংকুচিত করার প্রস্তাব রয়েছে।
সমর্থকদের দাবি, এসব পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল নিরাপত্তা সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। তবে সমালোচকদের মতে, এসব পরিবর্তনের মাধ্যমে কংগ্রেসের নিয়মিত পর্যালোচনা ও নীতিগত বিতর্কের সুযোগ সীমিত হয়ে যাবে।
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলকে নিঃশর্ত সামরিক সহায়তার বিষয়ে জনমতের পরিবর্তনও লক্ষ করা যাচ্ছে। বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা গেছে, আগের তুলনায় বেশি সংখ্যক মার্কিন নাগরিক মনে করছেন, ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা অতিরিক্ত। একই সঙ্গে ইসরায়েল সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণাও বেড়েছে বলে জরিপগুলোতে উঠে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ পরিস্থিতিতে সামরিক সহায়তা নিয়ে উন্মুক্ত রাজনৈতিক বিতর্কের পরিবর্তে বিষয়টি প্রতিরক্ষা বাজেটের মতো অপরিহার্য বিলের সঙ্গে যুক্ত করলে আইনপ্রণেতাদের জন্য ভিন্নমত প্রকাশ কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ এসব বিলের বিরোধিতা করলে জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ ওঠার ঝুঁকি থাকে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পররাষ্ট্রনীতি ও সামরিক সহায়তার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়মিতভাবে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে পর্যালোচনার সুযোগ থাকা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার একটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, মিত্র দেশের নীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থ সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই এসব নীতিকে স্থায়ী প্রশাসনিক কাঠামোয় বেঁধে ফেললে ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় নীতিগত পরিবর্তনের সুযোগ সীমিত হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি কেবল যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কের নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি কতটা গণতান্ত্রিক পর্যালোচনা ও জবাবদিহির আওতায় থাকবে, সেই বৃহত্তর প্রশ্নও এর সঙ্গে জড়িত।
















