রাশিয়ার ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বাড়তে থাকায় ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর কাছে আরও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
তুরস্কে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ন্যাটো সম্মেলনে তিনি মিত্র দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে ইউক্রেনের জন্য অতিরিক্ত প্রতিরক্ষা সহায়তার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরবেন। সম্মেলনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও তার বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সম্প্রতি এক সপ্তাহেরও কম সময়ের ব্যবধানে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় রাজধানী কিয়েভের আবাসিক ভবনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অন্তত অর্ধশতাধিক বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ঘটে। এসব হামলার পর জেলেনস্কি বলছেন, রাশিয়ার এই আক্রমণ তাদের শক্তির নয়, বরং দুর্বলতার বহিঃপ্রকাশ এবং মস্কোর ওপর আরও আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে ইউক্রেনও সাম্প্রতিক সময়ে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা জোরদার করেছে। রাশিয়ার তেল শোধনাগার, সামরিক স্থাপনা এবং জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো এসব হামলায় বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইউক্রেনের দাবি, তারা বিপুল সংখ্যক ড্রোন প্রতিহত করতে সক্ষম হলেও উচ্চগতির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। কারণ এ ধরনের হামলা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত পর্যাপ্ত নয়।
জেলেনস্কি বলেছেন, আধুনিক বিশ্বে মানুষের জীবন রক্ষার জন্য যে পরিমাণ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দরকার, তার উৎপাদন এখনো সেই পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তিনি ইউরোপীয় দেশগুলোকেও তাদের মজুত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইউক্রেনকে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ইউক্রেন একই সঙ্গে ন্যাটোর সহযোগিতায় নিজস্ব আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উন্নয়নের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরছে। তাদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে নিজস্ব সক্ষমতা গড়ে তোলা দেশের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে রাশিয়া দাবি করেছে, ইউক্রেনের শত শত ড্রোন রাজধানী মস্কোর দিকে পাঠানো হলেও অধিকাংশই প্রতিহত করা হয়েছে। তবে ইউক্রেনের সাম্প্রতিক ড্রোন হামলায় রাশিয়ার বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনা ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবরও প্রকাশিত হয়েছে।
জেলেনস্কির আশা, ন্যাটো সম্মেলনে মিত্রদের কাছ থেকে কার্যকর প্রতিরক্ষা সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে ইউক্রেন একদিকে নিজেদের আকাশসীমা আরও সুরক্ষিত করতে পারবে, অন্যদিকে রাশিয়াকে অর্থবহ শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে চাপ সৃষ্টি করা সহজ হবে।
















