ভারতের নারী ক্রিকেট দল লিখে ফেলল এক অনবদ্য ইতিহাস। নবি মুম্বাইয়ের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার দেওয়া বিশাল লক্ষ্য ৩৩৯ রান তাড়া করে জয় তুলে নিয়েছে তারা, মাত্র পাঁচ উইকেট হাতে রেখেই। এই জয়ে ভারত পৌঁছে গেছে নারী বিশ্বকাপের ফাইনালে, যা এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে গোটা ক্রিকেট দুনিয়ায়।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ফিবি লিচফিল্ডের ঝলমলে শতরান (১১৯ বলে ৯৩) ভারতকে বিপাকে ফেলেছিল শুরুতেই। কিন্তু জেমিমা রদ্রিগেজের অপরাজিত ১২৭ রানের ইনিংস যেন ঝড়ের মতো পাল্টে দেয় পুরো খেলার রূপ। অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌরের সঙ্গে তার ১৬৭ রানের জুটি ভারতের জয়ের ভিত গড়ে দেয়। হরমনপ্রীত আউট হন ৮৯ রানে, কিন্তু জেমিমা ছিলেন অবিচল—শান্ত অথচ অগ্নিময়। শেষ পর্যন্ত তার ব্যাটেই জয় নিশ্চিত হয়, আর ভারত ইতিহাস গড়ে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ী হয় নারীদের একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে।
খেলা শেষে জেমিমার চোখে জল, সতীর্থদের আলিঙ্গনে ভেসে গেলেন তিনি। অমানজোত কৌরের ব্যাট থেকে বিজয়ের সেই শেষ শটটি মাঠজুড়ে এক উন্মাদনার ঢেউ তোলে। রবিবার ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে ভারত।
অস্ট্রেলিয়া তাদের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি। হরমনপ্রীতের যখন মাত্র ১০ রান, তখন সহজ স্টাম্পিং মিস করেন অ্যালিসা হিলি। এরপর রদ্রিগেজের জীবনদান—যখন তিনি ছিলেন ৮২ রানে—হয়তো অস্ট্রেলিয়ার ভাগ্যরেখা বদলে দেয়। দু’বারই হিলির ভুলে হতাশ হন বোলার অ্যালানা কিং।
অস্ট্রেলিয়ার লিচফিল্ড অবশ্য শুরু থেকেই ঝড় তোলেন। অফ সাইডে ধারাবাহিকভাবে বল পাঠিয়ে ৭৭ বলে তুলে ফেলেন শতরান। তার ব্যাটিংয়ে ছিল ১৭টি চার ও ৩টি ছয়, বেশিরভাগই অফ দিকেই। কিন্তু তার বিদায়ের পর অস্ট্রেলিয়া ভেঙে পড়ে। তিনটি রান আউট ও ভুল সিদ্ধান্তের পর দলটি ৩৩৮ রানে গুটিয়ে যায়, যেখানে একসময় তারা ৩৭৫ রানের পথে ছিল।
খেলা শেষে আবেগে ভাসলেন জেমিমা রদ্রিগেজ। বললেন, “এটা আমার জীবনের স্বপ্নের দিন। প্রতিদিন কেঁদেছি, মানসিক চাপ ছিল প্রচণ্ড, কিন্তু আজ সব কষ্ট সফলতায় রূপ নিল। আমি শুধু চেয়েছিলাম ভারত যেন জেতে।”
অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর জানালেন, “আমি গর্বিত, ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। আমরা বছরের পর বছর এই মুহূর্তের অপেক্ষায় ছিলাম। দলের প্রত্যেকেই জানে, তারা যেকোনো ম্যাচে জয় এনে দিতে পারে।”
অন্যদিকে অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক অ্যালিসা হিলি বললেন, “আমরা নিজেদেরই হারিয়েছি। ব্যাটে-ফিল্ডে ভুল করেছি, আর ভারত আমাদের সেই ভুলের মূল্য বুঝিয়ে দিয়েছে।”
এই জয় শুধু একটি ম্যাচ নয়, নারীদের ক্রিকেট ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়। ভারতের মেয়েরা দেখিয়ে দিলেন—তারা আর শুধু অংশগ্রহণকারী নয়, তারা এখন বিজয়ের আরেক নাম।
















