দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যানসহ পুরো কমিশন গত ৩ মার্চ পদত্যাগ করেছেন। আইন অনুযায়ী তারা ৩০ দিনের নোটিশ দিয়ে পদত্যাগ করেন। একই সঙ্গে নোটিশকালের ৩০ দিন ছুটি নিয়েছেন। ফলে কমিশনবিহীন দুদকের কাজকর্মে স্থবিরতা বিরাজ করছে। বিশেষ করে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কমিশনে জমা হওয়া শত শত অভিযোগের কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যাচ্ছে না। নতুন কমিশন নিয়োগ ও যোগদান না করা পর্যন্ত এ অবস্থার কোনো পরিবর্তন হওয়ার সুযোগও নেই। যদিও বিদায়ী কমিশনের অনুমোদিত অভিযোগের অনুসন্ধান ও মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট এখতিয়ারভুক্ত কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম।
তিনি খবরের কাগজকে বলেন, ‘অনুসন্ধানকারী ও তদন্তকারী কর্মকর্তারা তাদের অনুসন্ধান ও তদন্তের প্রয়োজনে বিভিন্ন দপ্তর থেকে সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। এ ছাড়া নতুন যেসব অভিযোগ জমা পড়ছে, সেগুলো দুদকের যাচাই-বাছাই কমিটি খতিয়ে দেখছে। সেগুলোর বিষয়ে নতুন কমিশন নিয়োগ ও যোগদানের পর সিদ্ধান্ত হবে।’
দুদকের একাধিক কর্মকর্তা খবরের কাগজকে জানিয়েছেন, যেসব অভিযোগের অনুসন্ধান ও মামলার তদন্ত ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে, সেগুলোর মামলা দায়ের ও চার্জশিট দাখিলের বিষয়ে কমিশনের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক। তাই মামলা দায়ের ও চার্জশিট দাখিল করতে পরবর্তী কমিশনের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তবে এমন ঘটনাও আছে যে, কমিশন না থাকার সুযোগে দুদকের কোনো কোনো কর্মকর্তা ইচ্ছাকৃতভাবে অনুসন্ধান ও মামলার তদন্তকাজ থামিয়ে রেখেছেন। তারা চাইলে এসব কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারেন। কিন্তু তা করছেন না।
এ ছাড়া প্রায় প্রতিদিনই দুদকে অভিযোগ জমা হচ্ছে। সরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিড়ম্বনা, হয়রানি ও ঘুষ-দুর্নীতির শিকার হয়ে দুদকে অভিযোগ দিচ্ছেন অনেকেই। বিআরটিএ, পাসপোর্ট অফিস, ভূমি অফিস, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, হাসপাতাল, গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ, সিটি করপোরেশন, পৌরসভাসহ দুর্নীতিপ্রবণ প্রতিষ্ঠানগুলোর চলমান অবৈধ ঘুষ-দুর্নীতি ও অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ আসছে। দুদকের হটলাইন ১০৬ নম্বরে ফোন করেও অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে। রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় থাকা দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়গুলোতে লিখিত অভিযোগ জমা হচ্ছে।
কমিশন পদত্যাগ করার পর চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার নিয়োগের জন্য এখনো সার্চ কমিটি গঠন করা হয়নি। দুদক সংস্কার কমিশনের দেওয়া সুপারিশের ভিত্তিতে বিগত অন্তর্বর্তী সরকার দুদক আইন সংশোধন করে অধ্যাদেশ জারি করেছে। সেই অধ্যাদেশ গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে উত্থাপন হয়েছে। অধ্যাদেশ অনুসারে চেয়ারম্যানসহ পাঁচ সদস্যের কমিশন হওয়ার কথা, যা তিন সদস্যের ছিল। অধ্যাদেশ অনুসারে পাঁচ সদস্যের দুর্নীতি দমন কমিশন গঠনের সুপারিশ করতে সাত সদস্যের সার্চ কমিটি গঠনের কথা রয়েছে। তবে দুদকের পাঁচ সদস্যের কমিশন গঠনের বিষয়ে শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছে বিএনপি। দলটি সরকারে থাকায় এখন দেখার বিষয় এই অধ্যাদেশের কোন কোন অংশ বাদ দেওয়া হয়। যদি পাঁচ সদস্যের কমিশন গঠনের অংশটি বাদ দেওয়া হয়, তাহলে তিন সদস্যের কমিশন গঠনের নাম তালিকার সুপারিশের জন্য আগের মতোই সার্চ কমিটির সদস্যসংখ্যা থাকবে পাঁচ। আর পাঁচ সদস্যের কমিশন গঠনের উদ্দেশ্যে সার্চ কমিটির সদস্যসংখ্যা হবে সাত।
















