দীর্ঘ ১৪ বছরের শাসন শেষে ৮৩ বছর বয়সেও যেন থামতে জানেন না আলাসানে ওয়াতারা। আফ্রিকার পশ্চিম উপকূলের দেশ আইভরি কোস্ট আবারও তার হাতেই তুলে দিল ক্ষমতার মশাল। সোমবার দেশটির স্বতন্ত্র নির্বাচন কমিশন জানায়, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ওয়াতারা পেয়েছেন বিপুল ৮৯ দশমিক ৭৭ শতাংশ ভোট।
শনিবার অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে প্রায় ৯০ লাখ নাগরিকের ভোট দেওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু নির্বাচন যেন ছিল একতরফা এক নাটক—কারণ ওয়াতারার প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বীই ছিলেন অনুপস্থিত। সাবেক প্রেসিডেন্ট লরেন্ট গবাগবোকে অপরাধমূলক মামলার কারণে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়, আর সাবেক ক্রেডিট সুইস প্রধান টিজানে থিয়াম ফরাসি নাগরিকত্বের কারণে অযোগ্য ঘোষিত হন।
বাকি চার প্রার্থী ছিলেন প্রায় নামমাত্র। তহবিল ও রাজনৈতিক সমর্থনের অভাবে কেউই ওয়াতারার সামনে দাঁড়াতে পারেননি। সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী জঁ-লুই বিলন, যিনি নির্বাচনের পরই ওয়াতারাকে অভিনন্দন জানান, পেয়েছেন মাত্র ৩ দশমিক ০৯ শতাংশ ভোট। সাবেক ফার্স্ট লেডি সিমোন গবাগবো পেয়েছেন ২ দশমিক ৪২ শতাংশ। এসব ফল ঘোষণা করেন নির্বাচনী কমিশনের সভাপতি ইব্রাহিম কুলিবালি-কুইবিয়ের, রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সম্প্রচারে।
ভোটার উপস্থিতি ছিল প্রায় ৫০ শতাংশ—২০১০ ও ২০১৫ সালের নির্বাচনের সমান। তবে সেই উচ্ছ্বাস এবার দেখা যায়নি। ২০১০ সালের প্রথম দফায় যেখানে ৮০ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়েছিলেন, এবার অর্ধেকের বেশি মানুষ ভোটকেন্দ্রে যাননি।
ওয়াতারার চতুর্থবারের প্রার্থী হওয়াই যেন জনরোষের কেন্দ্রবিন্দু। সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট পদে দুই মেয়াদের সীমা থাকলেও ২০১৬ সালের সাংবিধানিক সংস্কারকে যুক্তি দেখিয়ে তিনি বলেন, আগের মেয়াদগুলো বাতিল হয়ে গেছে, আর তাই তার প্রার্থিতা বৈধ।
ভোটের আগের সপ্তাহগুলো ছিল উত্তেজনায় ভরা। নিষিদ্ধ প্রার্থীদের সমর্থনে ছড়িয়ে পড়েছিল বিক্ষোভ, রাস্তায় নেমেছিল জনগণ। সরকার তখন আন্দোলন নিষিদ্ধ করে এবং কমন ফ্রন্ট রাজনৈতিক আন্দোলনের অন্তত ২০০ জন সদস্যকে গ্রেপ্তার করে।
এই নির্বাচনের মাধ্যমে ওয়াতারার শাসনের নতুন অধ্যায় শুরু হলো, কিন্তু আইভরি কোস্টের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ রয়ে গেল এক অনিশ্চিত ছায়ায়।
















