আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তালেবান সরকার জানিয়েছে, পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান আফগান আকাশসীমায় প্রবেশ করলে তাদের বিরুদ্ধে বিমানবিধ্বংসী ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে। সংঘাত টানা চতুর্থ দিনে গড়িয়েছে।
তালেবান কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, কাবুলের উত্তরে অবস্থিত সাবেক মার্কিন ঘাঁটি বাগরাম বিমানঘাঁটিতে পাকিস্তানের সম্ভাব্য হামলা প্রতিহত করা হয়েছে। এ বিষয়ে ইসলামাবাদ আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
পাকিস্তান এরই মধ্যে দুই দেশের মধ্যে ‘খোলা যুদ্ধ’ চলছে বলে ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, দক্ষিণাঞ্চলের ঝোব সেক্টরে প্রায় ৩২ বর্গকিলোমিটার আফগান ভূখণ্ড এখনো পাকিস্তানি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
আফগান সরকারের উপমুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া লড়াইয়ে বিভিন্ন প্রদেশে পাকিস্তানি হামলায় অন্তত ৫৫ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। নানগারহার প্রদেশে ড্রোন হামলায় এক নারী ও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। পূর্বাঞ্চলের পাকতিয়া প্রদেশে মর্টার হামলায় এক বেসামরিক ব্যক্তিও নিহত হন।
কুনার প্রদেশের এক বাসিন্দা জানান, গোলাবর্ষণের সময় তার ভাই বাড়ি ছেড়ে যেতে অস্বীকৃতি জানালে মসজিদের কাছে নিহত হন। তবে উভয় পক্ষের হতাহতের দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সংঘাতের পেছনে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। পাকিস্তান অভিযোগ করে আসছে, তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান নামে পরিচিত সশস্ত্র গোষ্ঠী আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানে হামলা চালায়। আফগান কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তাদের মাটি কোনো প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।
গত ফেব্রুয়ারির শেষদিকে পাকিস্তান নানগারহার ও পাকতিকা প্রদেশে তথাকথিত তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের আস্তানায় বিমান হামলা চালায়। জাতিসংঘ জানিয়েছে, ওই হামলায় অন্তত ১৩ আফগান বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার বিশ্বাসযোগ্য তথ্য রয়েছে। এরপর কাবুল সীমান্তজুড়ে পাল্টা অভিযান শুরু করে।
সামরিক শক্তির দিক থেকে পাকিস্তান প্রচলিত অস্ত্রশস্ত্রে এগিয়ে থাকলেও আফগান তালেবান ড্রোন ব্যবহার করে পাকিস্তানি সামরিক শিবিরে আঘাত হানছে, যা সংঘাতের ধরন বদলে দিচ্ছে।
তালেবান আলোচনা করার ইঙ্গিত দিলেও পাকিস্তান তা প্রত্যাখ্যান করেছে। ইসলামাবাদের দাবি, তাদের একমাত্র শর্ত হলো আফগান ভূখণ্ড থেকে ‘সন্ত্রাসবাদ’ বন্ধ করা।
এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাতিসংঘ, রাশিয়া, ইরান, সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জর্ডানসহ বিভিন্ন পক্ষ উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছে। কূটনৈতিক মহলের আশঙ্কা, বৃহত্তর আঞ্চলিক সংকটের মধ্যে এই সংঘাত আন্তর্জাতিক মনোযোগের বাইরে থেকে যেতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত সংলাপে না ফিরলে এই সংঘাত সীমান্তের বাইরে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে, যা দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
















