যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং ‘সব লক্ষ্য পূরণ’ না হওয়া পর্যন্ত তা থামবে না। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এই সংঘাতে আরও মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
রোববার নিজের সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় ট্রাম্প বলেন, এটি একটি ‘ন্যায়সঙ্গত মিশন’। তার ভাষ্য, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনকারী ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গুরুতর হুমকি হতে পারে। তবে ইরান এমন অস্ত্র তৈরি করছে—এমন দাবির পক্ষে এখনো প্রকাশ্যে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর আঞ্চলিক পাল্টা হামলায় তিন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সামরিক কমান্ড। আরও পাঁচ সেনা গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
ট্রাম্প নিহত সেনাদের প্রতি শোক জানিয়ে বলেন, তাদের আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশোধ নেবে এবং কঠোর আঘাত হানবে। একই সঙ্গে তিনি আবারও ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড, সামরিক বাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের অস্ত্র সমর্পণের আহ্বান জানান। তা না হলে ‘নিশ্চিত পরিণতি’ ভোগ করতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন।
তবে দিনের শুরুতে দেওয়া কয়েকটি সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেছিলেন। তিনি বলেন, ইরানের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনায় বসতে তিনি প্রস্তুত। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার পথ খোলা রেখেছে।
খামেনি হত্যার পর ইরানে তিন সদস্যের একটি অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব পরিষদ দায়িত্ব নিয়েছে। এতে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান, প্রধান বিচারপতি গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেই এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের সদস্য আয়াতুল্লাহ আলিরেজা আরাফি।
তবে রোববারের ভাষণে ট্রাম্প কূটনৈতিক সম্ভাবনার কোনো উল্লেখ করেননি। বরং তিনি ইরানে শাসন পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে দেশটির জনগণকে ‘সাহসী হওয়ার’ আহ্বান জানান।
এদিকে সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে। কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, জর্ডান, বাহরাইন ও ওমানে ইরানি হামলার খবর পাওয়া গেছে। ইরানে অন্তত ২০১ জন নিহত ও শত শত আহত হয়েছেন। ইসরায়েলে নিহত হয়েছেন অন্তত নয়জন। কুয়েত, আমিরাত ও ইরাকেও প্রাণহানির খবর রয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, শীর্ষ সামরিক নেতৃত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট পূর্বনির্ধারিত নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছে। তার ভাষায়, নিজেদের জনগণকে রক্ষায় ইরানের জন্য কোনো সীমা নেই।
বিশ্লেষকদের মতে, কূটনীতির ইঙ্গিত ও কঠোর সামরিক ভাষণের এই দ্বৈত অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। এখন প্রশ্ন—সংঘাত কি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে রূপ নেবে, নাকি আলোচনার পথ আবারও খুলবে।
















