তেহরানের শক্তি নিয়ে সজাগ থাকলেও দ্রুত বিজয়ের প্রত্যাশা; আলোচনার দরজা খোলা থাকলেও কঠোর অবস্থানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ পূর্বাভাস দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানিয়েছেন, তেহরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ সর্বোচ্চ চার সপ্তাহ বা এক মাস স্থায়ী হতে পারে।
আল-জাজিরার বরাতে জানা গেছে, মার্কিন প্রশাসন এই অভিযানের সময়সীমা নিয়ে একটি সুনির্দিষ্ট হিসাব কষেই মাঠে নেমেছে। ট্রাম্পের মতে, সামরিক পরিকল্পনা অনুযায়ী পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে চার সপ্তাহের বেশি সময় লাগার কথা নয়। ইরানের বিশাল আয়তন এবং সামরিক সক্ষমতার বিষয়টি স্বীকার করে নিলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাবি করেন যে, আধুনিক যুদ্ধকৌশল ও শক্তিমত্তার কারণে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব।
সাক্ষাৎকারে অভিযানের সময়সীমা নিয়ে ট্রাম্প বলেন, “এটি সব সময়ই চার সপ্তাহের একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়া ছিল। আমরা চুলচেরা বিশ্লেষণ করে দেখেছি যে, ইরানের মতো শক্তিশালী ও বড় দেশকে মোকাবিলা করতে আমাদের চার সপ্তাহ বা তারও কম সময় লাগবে।”
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ বাহিনীর এই অগ্রাসন যখন তুঙ্গে, তখন প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্য যুদ্ধের ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়ে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি নিহতের খবরের পর যখন পুরো অঞ্চল অগ্নিগর্ভ হয়ে আছে, তখন ট্রাম্পের এই আত্মবিশ্বাসী বক্তব্য ইরানকে আরও কোণঠাসা করার কৌশল হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
ইরানের সঙ্গে আলোচনার কোনো পথ এখনো খোলা আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প ইতিবাচক ইঙ্গিত দিলেও তেহরানকে এক হাত নিতে ছাড়েননি। তিনি বলেন, তিনি এখনো কূটনীতির পক্ষে, তবে সময়ক্ষেপণ সহ্য করা হবে না। ট্রাম্পের ভাষায়, “তারা (ইরান) এখন কথা বলতে চায়।
কিন্তু আমি তাদের পরিষ্কার বলেছি, তোমাদের উচিত ছিল গত সপ্তাহেই আলোচনায় বসা, এই সপ্তাহে নয়।” ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ওয়াশিংটন এখন আলোচনার চেয়ে সামরিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নেই বেশি আগ্রহী। চার সপ্তাহের এই সময়সীমা যদি দীর্ঘায়িত হয়, তবে তা বিশ্বরাজনীতি ও অর্থনীতিতে কী ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনবে, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেজ্ঞরা।
















