আকাশপথে হামলায় তেহরানের ক্ষমতার কাঠামো ভাঙার চেষ্টা, সাফল্য না হলে বাড়তে পারে রাজনৈতিক মূল্য
ইরানে হামলা ও সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিশাল ঝুঁকি নিয়েছেন—মার্কিন সামরিক শক্তি দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলে দেওয়ার চেষ্টা। অতীতের একাধিক প্রেসিডেন্ট যেখানে ব্যর্থ হয়েছেন, সেখানে তিনি আকাশপথে অভিযান চালিয়ে তেহরানে শাসন পরিবর্তন ঘটাতে চান।
যদি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ ধ্বংস করা যায় এবং স্থলবাহিনী না পাঠিয়েই ক্ষমতার পরিবর্তন নিশ্চিত হয়, তবে ট্রাম্প এটিকে প্রজন্মগত সাফল্য হিসেবে তুলে ধরবেন। তবে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় সুস্পষ্ট পরিকল্পনার অভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযান ব্যর্থ হলে বা বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিলে, যা দীর্ঘমেয়াদি মার্কিন সম্পৃক্ততা দাবি করতে পারে, তা ট্রাম্পের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ও তার দলের কংগ্রেসে প্রভাবের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
হামলা শুরুর ঘোষণায় ট্রাম্প স্বীকার করেন, “মার্কিন বীরদের প্রাণহানি হতে পারে।” তার দাবি, ১৯৭৯ সাল থেকে ইরানি শাসনব্যবস্থা মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে এবং এর জবাব দেওয়া জরুরি।
তবে ইরানের পাল্টা হামলা ইতোমধ্যে বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতারসহ বিভিন্ন দেশে লক্ষ্য করা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, তেহরান আঞ্চলিক সংঘাত দীর্ঘায়িত করে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও মার্কিন অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
নৌবাহিনী বিষয়ক এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যাপক মোহাম্মদ হাফেজ বলেন, শাসন পরিবর্তন চাইলে কেবল আকাশ হামলা যথেষ্ট নয়; স্থলবাহিনীর উপস্থিতি ছাড়া তা কার্যকর করা কঠিন। তার মতে, এটি দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থায় রূপ নিতে পারে।
দেশের ভেতরেও ট্রাম্পকে রাজনৈতিক লড়াইয়ের মুখে পড়তে হতে পারে। তিনি কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই সামরিক অভিযান শুরু করেছেন, যা ডেমোক্র্যাটদের তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
হাউসের স্পিকার মাইক জনসন হামলার পক্ষে সমর্থন জানিয়ে বলেন, ইরান তার কর্মকাণ্ডের পরিণতি ভোগ করছে। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট নেতারা অভিযোগ করেছেন, প্রশাসন সম্ভাব্য হুমকির ব্যাপ্তি ও তাৎক্ষণিকতা সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য দেয়নি।
ডেমোক্র্যাটদের একাংশ যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করার প্রস্তাব আনার কথা বলেছে। তাদের মতে, কৌশলগত লক্ষ্য ও পরবর্তী পরিকল্পনা স্পষ্ট নয়।
নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই সংঘাত ট্রাম্পের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত তার অন্যান্য অগ্রাধিকার—গাজা পুনর্গঠন বা সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার—প্রভাবিত করতে পারে।
সমর্থকেরা বলছেন, ট্রাম্পের অপ্রচলিত কৌশলই তাকে অতীতে সাফল্য এনে দিয়েছে। সমালোচকদের মতে, একই কৌশল এবার তাকে রাজনৈতিক ও সামরিক জটিলতায় ফেলতে পারে।
শেষ পর্যন্ত, এই সামরিক পদক্ষেপ ট্রাম্পের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের ওপর গভীর ছাপ ফেলতে পারে—সাফল্য হলে তা বড় অর্জন, ব্যর্থ হলে তা দীর্ঘমেয়াদি বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
















