উপসাগরীয় অঞ্চলে একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ, একাধিক দেশে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয়
ইরানের পাল্টা সামরিক হামলার জেরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই নগরের বিলাসবহুল ‘ফেয়ারমন্ট দ্য পাম’ হোটেলে আগুন লাগে। প্রত্যক্ষদর্শীর ধারণ করা দৃশ্যে দেখা যায়, আঘাতের পরপরই বিশাল অগ্নিগোলক সৃষ্টি হয় এবং কালো ধোঁয়া আকাশে উড়তে থাকে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, পাম জুমেইরাহ এলাকায় একটি ভবনে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। একই সময়ে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি ঘটনায় চারজন আহত হওয়ার কথা জানানো হয়েছে। বিমানবন্দরের একটি অংশে সামান্য ক্ষয়ক্ষতির কথাও বলা হয়েছে।
ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের একাধিক দেশে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। কাতার, বাহরাইন, জর্ডান ও কুয়েত জানায়, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। এসব দেশের প্রত্যেকটিতেই মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।
বাহরাইনের রাজধানী মানামায় মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরের নিকটবর্তী এলাকায় কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ বিবরণ এখনো স্পষ্ট নয়।
কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, আল-উদেইদ ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করা একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। কুয়েতে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ড্রোন হামলায় কয়েকজন কর্মী সামান্য আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ইরানের হামলাকে জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে। তারা জানায়, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দক্ষতার সঙ্গে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। আবুধাবির একটি আবাসিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলেও জানানো হয়।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, “সত্য প্রতিশ্রুতি ৪” নামে অভিযানের অংশ হিসেবে তারা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্বার্থকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রতিশোধ বলে দাবি করা হয়।
এদিকে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য তদারকি সংস্থা জানিয়েছে, জাহাজ চলাচলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যেতে পারে—এমন সতর্কবার্তা পাওয়া গেছে। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়। এটি বন্ধ হলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে গভীর প্রভাব পড়তে পারে।
ইসরায়েলেও সারাদিন জুড়ে সতর্ক সংকেত বেজেছে। দেশটির সামরিক বাহিনী জানায়, ইরান থেকে একাধিক দফায় ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে এবং সেগুলো প্রতিহত করতে বিমানবাহিনী কাজ করছে। জর্ডানও জানায়, তাদের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলাকে সম্পূর্ণ উসকানিহীন, অবৈধ ও অগ্রহণযোগ্য বলে নিন্দা করেন। তিনি বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে এবং আগ্রাসীদের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।
















