ইরান, ইসরায়েল, জর্ডান, কাতারসহ অন্তত আট দেশের আকাশপথ সাময়িকভাবে বন্ধ
ইউরোপ-এশিয়া রুটে বড় প্রভাব, শতাধিক ফ্লাইট বাতিল
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলা এবং তেহরানের পাল্টা আঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তীর্ণ আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বিশ্বব্যাপী বিমান চলাচলে।
সংঘাত শুরু হওয়ার পর ইরান, ইসরায়েল, ইরাক, জর্ডান, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ অন্তত আটটি দেশ তাদের আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করে। সিরিয়াও ইসরায়েল সীমান্তসংলগ্ন দক্ষিণাঞ্চলের আকাশপথ নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্ধ রাখার কথা জানায়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শিল্প ও নৌ সক্ষমতা ধ্বংস করাই হামলার লক্ষ্য। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল ছাড়াও উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলা চালানোর ঘোষণা দেয়। এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা জানান, এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সব স্বার্থ বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে পূর্ব ইউরোপের আকাশপথ বন্ধ থাকায় ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে চলাচলের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের রুট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। এখন সেই রুটেও বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। বহু বিমান লারনাকা, জেদ্দা, কায়রো ও রিয়াদের ওপর দিয়ে ঘুরপথে যেতে বাধ্য হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক কয়েকটি বড় বিমান সংস্থা সাময়িকভাবে কার্যক্রম স্থগিত করেছে। আবুধাবি থেকে সব ফ্লাইট নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়। কাতার ও কুয়েতের জাতীয় বিমান সংস্থাগুলোও সাময়িকভাবে ফ্লাইট স্থগিত করে। তুরস্কভিত্তিক একটি বড় সংস্থাও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি গন্তব্যে ফ্লাইট বাতিল করেছে।
কুয়েতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ইরানে সব ফ্লাইট অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়। রাশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয়ও জানায়, তাদের বিমান সংস্থাগুলো ইরান ও ইসরায়েলে ফ্লাইট স্থগিত করেছে। ইউরোপ ও এশিয়ার একাধিক বড় বিমান সংস্থাও অঞ্চলটির বিভিন্ন গন্তব্যে ফ্লাইট বাতিল করেছে।
বিমান চলাচল পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, শনিবার মধ্যপ্রাচ্যগামী প্রায় এক-চতুর্থাংশ ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। কাতার ও ইসরায়েলগামী প্রায় অর্ধেক ফ্লাইট স্থগিত করা হয়, কুয়েতগামী ফ্লাইটেরও বড় অংশ বাতিল হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আকাশসীমা দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকতে পারে এবং পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। দোহা থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক জানান, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা ও ইরানের পাল্টা আঘাত অঞ্চলজুড়ে সমান্তরাল সংঘাত তৈরি করেছে, যা সংকটকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
সব মিলিয়ে চলমান সামরিক উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে, আর মধ্যপ্রাচ্য এখন বৈশ্বিক ভ্রমণ ব্যবস্থার এক বড় অনিশ্চয়তার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
















