যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্য সফরে একসময় বলেছিলেন, তিনি অন্য দেশের শাসনব্যবস্থা বদলানোর নীতি অনুসরণ করবেন না। কিন্তু কয়েক মাসের ব্যবধানে ইরানের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ হামলার নির্দেশ দিয়ে তিনি নিজ অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক পথে হাঁটলেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
তাদের মতে, এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অগ্রাধিকারের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়; বরং এতে বেশি লাভবান হচ্ছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
দীর্ঘদিনের ‘ইরান হুমকি’ তত্ত্ব
নেতানিয়াহু দুই দশকের বেশি সময় ধরে দাবি করে আসছেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্রের দ্বারপ্রান্তে। যদিও তেহরান বারবার তা অস্বীকার করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারাও সরাসরি অস্ত্র তৈরির প্রমাণ প্রকাশ করেননি।
গত বছরের সংঘাতে ইরানের প্রধান সমৃদ্ধকরণ স্থাপনায় হামলার পর নেতানিয়াহু ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে নতুন হুমকি হিসেবে তুলে ধরেন। ট্রাম্পও সাম্প্রতিক ভাষণে একই দাবি পুনরাবৃত্তি করেন।
ট্রাম্পের ঘোষণার সঙ্গে অসামঞ্জস্য
সমালোচকেরা বলছেন, ট্রাম্প নিজেকে “শান্তির প্রেসিডেন্ট” হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন এবং অতীতের শাসনপরিবর্তনমূলক যুদ্ধের সমালোচনা করেছিলেন। কিন্তু বর্তমান পদক্ষেপ সেই অবস্থানের পরিপন্থী।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে মধ্যপ্রাচ্যের অগ্রাধিকার কমিয়ে অন্য অঞ্চলে মনোযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। জনমত জরিপেও দেখা গেছে, অধিকাংশ আমেরিকান নতুন করে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়াতে চান না।
আলোচনার মাঝেই সংঘাত
সম্প্রতি ওমানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কয়েক দফা আলোচনা হয়েছিল। ইরান জানিয়েছিল, তারা কঠোর তদারকিতে রাজি। তবে আলোচনা চলাকালেই সামরিক উত্তেজনা বেড়ে যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক সমাধান ভেস্তে গেলে তা নেতানিয়াহুর জন্য রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, কারণ তিনি দীর্ঘদিন ধরে কঠোর সামরিক অবস্থানের পক্ষে।
‘আমেরিকা ফার্স্ট’ বিতর্ক
ট্রাম্প বলেছেন, ইরান যাতে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা হুমকিতে ফেলতে না পারে, সে লক্ষ্যেই হামলা। তবে তাঁর নিজ রাজনৈতিক ঘরানার কিছু সমর্থকও প্রশ্ন তুলেছেন—হাজার হাজার কিলোমিটার দূরের একটি দেশ কি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি?
কংগ্রেস সদস্য রাশিদা তালিব বলেন, অধিকাংশ আমেরিকান নতুন যুদ্ধ চান না এবং এই সিদ্ধান্ত জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করছে।
পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। ইরানের পাল্টা হামলা ইতোমধ্যে অঞ্চলজুড়ে অস্থিরতা বাড়িয়েছে। এখন প্রশ্ন—এই সংঘাত কি সীমিত থাকবে, নাকি বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেবে।
















