মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের নতুন মোড়; তেহরানের সামরিক নেতৃত্বে বড় আঘাতের খবর প্রচার করল আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান চরম উত্তেজনার মধ্যেই ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর এক বিধ্বংসী হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজাদেহ এবং ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (IRGC) গুরুত্বপূর্ণ কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের সাথে পরিচিত দুটি নির্ভরযোগ্য সূত্র এবং একটি আঞ্চলিক গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে এই চাঞ্চল্যকর খবরটি প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরানের উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে চালানো এই সুনির্দিষ্ট হামলায় দেশটির প্রতিরক্ষা কাঠামোর শীর্ষ দুই ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন বলে জোরালো তথ্য পাওয়া গেছে, যা তেহরানের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রয়টার্সের এই প্রতিবেদনটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, কারণ আমির নাসিরজাদেহ ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ও সামরিক কৌশল নির্ধারণে অত্যন্ত প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করছিলেন। অন্যদিকে, মোহাম্মদ পাকপুর রেভল্যুশনারি গার্ডের স্থলবাহিনীর প্রধান হিসেবে দীর্ঘকাল ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
যদিও ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই খবরের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি বা কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি, তবে ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই খবর সত্য হলে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার সংঘাত একটি পূর্ণাঙ্গ ও ভয়াবহ যুদ্ধের দিকে ধাবিত হতে পারে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) সচরাচর এই ধরনের অভিযানের বিষয়ে তাৎক্ষণিক মন্তব্য না করলেও, সাম্প্রতিক সময়ে তারা ইরানের অভ্যন্তরে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে একের পর এক গোপন অভিযান চালিয়ে আসছে।
এই সম্ভাব্য হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ওয়াশিংটন এবং অন্যান্য পশ্চিমা দেশগুলো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। যদি ইরানের শীর্ষ সামরিক নেতৃত্বের এই নিহতের সংবাদ চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়, তবে তেহরান এর কঠিন প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ঘটনাটি কেবল ইরান-ইসরায়েল সম্পর্কের ক্ষেত্রেই নয়, বরং পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা সমীকরণে এক ঐতিহাসিক ও বিপজ্জনক মোড় হিসেবে চিহ্নিত হতে যাচ্ছে।
















