চট্টগ্রাম নগরের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা এবং তীব্র যানজট পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে এবার তৈরি হতে যাচ্ছে অত্যাধুনিক মনোরেল ব্যবস্থা। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে, যা চট্টগ্রামবাসীর জন্য নিরাপদ ও দ্রুত গণপরিবহনের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) রেস্টহাউস প্রাঙ্গনে এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের সম্ভাব্যতা যাচাই বিষয়ক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সম্ভাব্য ৪টি রুট ও ব্যয়ের হিসাব
সভায় জানানো হয়, প্রাথমিকভাবে নগরের ৪টি গুরুত্বপূর্ণ রুটে মনোরেল চলাচলের বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। এই রুটগুলো হলো:
- কালুরঘাট থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত: (বহদ্দারহাট, চকবাজার, লালখান বাজার, দেওয়ানহাট ও পতেঙ্গা হয়ে) – ২৬.৫ কিলোমিটার।
- সিটি গেট থেকে শহিদ বশিরুজ্জামান চত্বর পর্যন্ত: (এ কে খান, নিমতলী, সদরঘাট ও ফিরিঙ্গি বাজার হয়ে) – ১৩.৫ কিলোমিটার।
- অক্সিজেন থেকে ফিরিঙ্গি বাজার পর্যন্ত: (মুরাদপুর, পাঁচলাইশ, আন্দরকিল্লা ও কোতোয়ালি হয়ে) – ১৪.৫ কিলোমিটার।
- সিটি গেট থেকে নিমতলা পর্যন্ত: (পোর্ট কানেক্টিং রোড ও আগ্রাবাদ এক্সেস হয়ে) – ১০.৯ কিলোমিটার।
সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের এই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে সময় লাগবে প্রায় ৭ থেকে ৮ মাস। এরপর ৩ থেকে ৪ বছরের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিদেশি কোম্পানির বাস্তবায়ন, চসিকের মুনাফা
এই বিশাল প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বিখ্যাত ওরাসকম কন্সট্রাকশন কোম্পানি। সভায় আরও জানানো হয় যে মনোরেল চালু হলে প্রতিষ্ঠানটি যাত্রী প্রতি ৫ টাকা হারে সিটি করপোরেশনকে মুনাফা দেবে। নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানটি প্রাথমিকভাবে ২০-২৫ বছর এটি পরিচালনা করবে এবং পরবর্তীতে প্রকল্পটি সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
মনোরেল পরিচালনার জন্য সেন্ট্রাল স্টেশন, স্টোরেজ ও রক্ষণাবেক্ষণসহ প্রায় ৫০ একর জায়গার প্রয়োজন হবে। এছাড়া, প্রতিদিন মনোরেল সচল রাখতে ৩০ থেকে ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দরকার হবে।
নগরবাসীর জন্য নিরাপদ যাতায়াতের সুযোগ
সভাপতির বক্তব্যে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “চট্টগ্রামের জনসংখ্যা ও যানজট বিবেচনায় গণপরিবহন ব্যবস্থায় আধুনিক সমাধান জরুরি। মনোরেল প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নগরবাসী পাবেন নিরাপদ, সময়নিষ্ঠ ও আরামদায়ক যাতায়াতের সুযোগ।”
তিনি আরও বলেন, এই প্রকল্প সফল হলে কর্মঘণ্টা বাঁচবে, যানজট কমবে এবং নগর অর্থনীতি হবে আরও গতিশীল। চট্টগ্রামকে একটি স্মার্ট ও পরিবেশবান্ধব শহরে রূপান্তরে সিটি করপোরেশন এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে।
সভায় মেয়রের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বৃহত্তর চট্টগ্রাম ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী, মনোরেল প্রকল্পের চিফ কো-অর্ডিনেটর ফয়সাল রহমান, আরব কন্ট্রাক্টরস ও ওরাসকম কন্সট্রাকশন কোম্পানির কান্ট্রি ডিরেক্টর কাউসার আহমেদ চৌধুরী, প্রকল্প পরামর্শক কামরান আনোয়ার নাগিভ এবং তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও প্রকল্পের চসিকের সমন্বয়ক আবু সাদাত মো. তৈয়ব।
















