গত বছর দুই মার্কিন সেনা ও এক দোভাষী নিহত হওয়ার ঘটনার জবাবে সিরিয়ায় আইএসআইএল লক্ষ্যবস্তুতে ধারাবাহিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ড এক বিবৃতিতে জানায়, ৩ থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সিরিয়ায় ৩০টির বেশি আইএসআইএল ঘাঁটিতে নির্ভুল অস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়েছে। এতে সংগঠনটির অবকাঠামো ও অস্ত্রভাণ্ডার লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
গত ডিসেম্বর পালমিরা শহরের কাছে আইএসআইএল হামলায় দুই মার্কিন সেনা ও এক মার্কিন বেসামরিক দোভাষী নিহত হন। এর পরই ‘হকআই’ নামে অভিযান শুরু হয়। কেন্দ্রীয় কমান্ডের দাবি, গত দুই মাসে এ অভিযানে ৫০ জনের বেশি যোদ্ধা নিহত বা আটক হয়েছে এবং প্রায় ১০০টি অবকাঠামোগত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে।
শুক্রবার হাজার হাজার আইএসআইএল বন্দিকে সিরিয়া থেকে ইরাকে স্থানান্তর সম্পন্ন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। বাগদাদের অনুরোধে তাদের ইরাকে বিচার প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত আল-তানফ সামরিক ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ এখন সরকারি বাহিনীর হাতে। বহু বছর ধরে এই ঘাঁটি আইএসআইএলবিরোধী অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা ব্যবহার করছিল।
২০১৯ সালে সিরিয়ায় আইএসআইএলের ভৌগোলিক পরাজয়ের সময় যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন জোট কুর্দি নেতৃত্বাধীন বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে অভিযান চালায়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটন জানিয়েছে, সেই জোটের মূল লক্ষ্য অনেকটাই পূরণ হয়েছে এবং তারা এখন সিরিয়ার নতুন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছে।
আল-তানফ ঘাঁটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে আসা এমন সময়ে ঘটছে, যখন দামেস্ক পুরো সিরিয়ার ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।
















