যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিসে এক অভিবাসীকে গুলি করার ঘটনায় দুই অভিবাসন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শপথ করে “মিথ্যা বক্তব্য” দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার ভারপ্রাপ্ত পরিচালক টড লায়ন্স জানান, সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে এবং অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হয়েছে।
লায়ন্স বলেন, শপথ করে মিথ্যা বলা একটি গুরুতর ফেডারেল অপরাধ। ভিডিও প্রমাণে দেখা গেছে, দুই কর্মকর্তার সাক্ষ্য ঘটনাটির বিবরণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তদন্ত শেষে তাদের চাকরিচ্যুতি এমনকি ফৌজদারি মামলার মুখোমুখিও হতে হতে পারে।
১৪ জানুয়ারির ওই ঘটনায় স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দপ্তর প্রথমে জানায়, কাগজপত্রবিহীন এক ভেনেজুয়েলীয় নাগরিককে ধাওয়া করার পর হাতাহাতির সময় তিনজন ব্যক্তি কোদাল ও ঝাড়ুর হাতল দিয়ে কর্মকর্তাকে আক্রমণ করে। আত্মরক্ষার্থে কর্মকর্তা গুলি চালান বলে দাবি করা হয়।
তবে শুরু থেকেই সরকারি বিবরণে অসঙ্গতি দেখা যায়। কে গাড়ি চালাচ্ছিল এবং কতজন আক্রমণে জড়িত ছিল—এ নিয়ে ভিন্ন তথ্য সামনে আসে। পরে অভিযোগপত্রে বলা হয়, দুজন ব্যক্তি জড়িত ছিলেন। গুলিবিদ্ধ হন হুলিও সেসার সোসা-সেলিস।
এই ঘটনায় আলফ্রেদো আলেহান্দ্রো আলহর্না ও সোসা-সেলিসের বিরুদ্ধে ফেডারেল কর্মকর্তার ওপর হামলার অভিযোগ আনা হয়েছিল। কিন্তু নতুন প্রমাণ আগের অভিযোগের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় মিনেসোটার শীর্ষ ফেডারেল কৌঁসুলি মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করেন। বিচারক শুক্রবার অভিযোগ খারিজ করে দেন, যা পুনরায় দায়ের করা যাবে না।
আলহর্নার আইনজীবী বলেন, নজরদারি ভিডিও কর্মকর্তার হামলার দাবি সমর্থন করেনি। সোসা-সেলিসের আইনজীবী জানান, তার মক্কেলই বরং অপরাধের শিকার এবং মিথ্যা বক্তব্য তার ও পরিবারের জন্য গুরুতর ক্ষতি ডেকে এনেছে।
ঘটনার পর আরও এক ভেনেজুয়েলীয় ব্যক্তিকে আটক করা হলেও পরে আদালতের নির্দেশে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। এদিকে সীমান্ত বিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা টম হোম্যান ঘোষণা করেছেন, মিনেসোটায় দুই মাসের বেশি সময় ধরে চলা বিশেষ অভিযান শেষ হচ্ছে। অভিযানে চার হাজারের বেশি কাগজপত্রবিহীন অভিবাসী আটক হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
















