ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর আবারও বিতর্কে জড়িয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, তিনি ট্রেজারির একটি গোপন ব্রিফিং নথি নিজের এক ব্যবসায়িক যোগাযোগের কাছে পাঠিয়েছিলেন, যখন তিনি যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
প্রকাশিত ইমেইল অনুযায়ী, ২০১০ সালে তিনি ট্রেজারি কর্মকর্তাদের কাছে আইসল্যান্ডের ব্যাংকিং সংকট নিয়ে তথ্য চান। পরে সেই ব্রিফিং তিনি জনাথন রোল্যান্ডের কাছে পাঠান। জনাথনের বাবা ডেভিড রোল্যান্ড তখন আইসল্যান্ডের একটি বিপর্যস্ত ব্যাংকের অংশ অধিগ্রহণ করেছিলেন।
জনাথন রোল্যান্ড বিবিসিকে বলেন, ইমেইলে তার নাম উল্লেখের বিষয়টি সম্পর্কে তার “কোনো ধারণা নেই” এবং এগুলো পুরনো আইনি প্রক্রিয়ার অংশ। ক্যাবিনেট অফিস ইমেইলের সত্যতা অস্বীকার না করলেও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
টাইমস জানায়, পুলিশ সম্ভাব্য ফৌজদারি তদন্তের আগে সরকার সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা করেছে। যদিও সরকারি সূত্র বলছে, তারা এমন আলোচনার বিষয়ে অবগত নয়।
ইমেইলগুলোতে দেখা যায়, অ্যান্ড্রু ট্রেজারির তথ্য পাওয়ার পর তা রোল্যান্ডকে পাঠিয়ে মতামত ও সমাধানের প্রস্তাব চান। ওই সময় ২০০৮ সালের আর্থিক সংকটের পর আইসল্যান্ডের তিনটি বড় ব্যাংক ভেঙে পড়ে এবং যুক্তরাজ্যের আমানতকারীদের ক্ষতিপূরণ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিরোধ চলছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের প্রকাশিত নথিতে আরও দেখা যায়, অ্যান্ড্রু ব্যবসায়ী ডেভিড রোল্যান্ডকে নিজের “বিশ্বস্ত অর্থ ব্যবস্থাপক” হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন এবং তার ব্যাংকের জন্য সম্ভাব্য ধনী গ্রাহক খোঁজার কথাও লিখেছিলেন।
ব্যাংক হ্যাভিল্যান্ড, যা পরে নিয়ন্ত্রকদের সঙ্গে সমস্যায় পড়ে, ২০২৪ সালে ব্যাংকিং লাইসেন্স হারায় এবং সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছে। জনাথন রোল্যান্ড বলেছেন, তিনি বা তার বাবা কখনো জেফ্রি এপস্টাইনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেননি।
অ্যান্ড্রু এপস্টাইনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে কোনো অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তিনি কোনো ধরনের অসদাচরণে জড়িত ছিলেন না।
















