চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্সের নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর ভিডিও নির্মাণ সরঞ্জাম নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ চলচ্চিত্র স্টুডিওগুলো। তাদের অভিযোগ, এই সরঞ্জামটি বিদ্যমান চলচ্চিত্র ও ধারাবাহিকের দৃশ্য এবং বাস্তব অভিনেতাদের অবয়ব ব্যবহার করে ব্যাপকভাবে স্বত্ব লঙ্ঘন করছে।
মোশন পিকচার অ্যাসোসিয়েশন, যা নেটফ্লিক্স, প্যারামাউন্ট পিকচার্স, সনি পিকচার্স, ইউনিভার্সাল স্টুডিওস, ওয়াল্ট ডিজনি স্টুডিওস এবং ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারি সহ বড় স্টুডিওগুলোর প্রতিনিধিত্ব করে, জানিয়েছে—এক দিনের মধ্যেই এই সেবা যুক্তরাষ্ট্রের কপিরাইটযুক্ত উপাদান অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করেছে।
বাইটড্যান্সের দাবি, প্রাথমিক পরীক্ষামূলক পর্যায়ে তৈরি কিছু উপাদানকে ঘিরেই বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বাস্তব মানুষের ছবি আপলোডের সুবিধা সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে এবং মেধাস্বত্ব সুরক্ষায় তারা প্রয়োজনীয় নীতিমালা জোরদার করছে।
এই সরঞ্জাম ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বহু অতিবাস্তব দৃশ্য। যেমন, টম ক্রুজ ও ব্র্যাড পিটের কল্পিত মারামারির দৃশ্য, অথবা জনপ্রিয় ধারাবাহিকের চরিত্রদের নতুনভাবে উপস্থাপন। এসব ভিডিও এতটাই বাস্তবসম্মত যে অনেকেই ভবিষ্যতে চলচ্চিত্র শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন।
ডেডপুল চলচ্চিত্রের সহ-চিত্রনাট্যকার রেট রিজ বলেন, প্রযুক্তিটি তাকে আতঙ্কিত করেছে। তার মতে, এত উচ্চমানের দৃশ্য যদি কয়েকটি শব্দ লিখেই তৈরি করা যায়, তবে চলচ্চিত্র জগতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।
অন্যদিকে কিছু লেখক মনে করেন, প্রযুক্তি যত উন্নতই হোক, মৌলিক ধারণা বা নতুন গল্প তৈরিই সবচেয়ে কঠিন কাজ। তাদের মতে, অনেক ব্যবহারকারী সীমাহীন প্রযুক্তিগত ক্ষমতা পেয়েও পুরোনো চলচ্চিত্র বা চরিত্র ঘিরেই কল্পনা করছে, যা প্রমাণ করে সৃজনশীলতা এখনো মানুষের হাতেই মূলত নির্ভরশীল।
চলচ্চিত্র শিল্পের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর এই ধরনের সরঞ্জাম যদি যথাযথ সুরক্ষা ছাড়া চালু থাকে, তবে তা শিল্পীদের কর্মসংস্থান, মেধাস্বত্ব ও সৃজনশীল স্বাধীনতার ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
















