দীর্ঘ বিরতির পর নিরঙ্কুশ জয়ে ক্ষমতায় ফিরেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। রাজধানীর গুলশানে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমর্থকদের উচ্ছ্বাস স্পষ্ট হলেও বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রকৃত পরীক্ষা এখনই শুরু।
সংসদ নির্বাচনের পরদিন দলীয় কার্যালয়ের সামনে রিকশাচালক আনোয়ার পাগলার রিকশায় এক পাশে বাংলাদেশের পতাকা, অন্য পাশে বিএনপির পতাকা উড়ছিল। নিজেকে দলের নিবেদিতপ্রাণ কর্মী পরিচয় দিয়ে তিনি বলেন, এবার দেশ ভালো হবে।
নির্বাচন কমিশনের গেজেট অনুযায়ী, ৩০০ আসনের মধ্যে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ২১২টি আসন। প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৭৭টি আসন। দেড় বছর আগে গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন সরকার পতনের পর থেকে দেশ অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে ছিল।
প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন তারেক রহমান। নির্বাচনের পর তিনি সমর্থকদের ভালোবাসার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। বিএনপির নেতারা জানিয়েছেন, নতুন সরকার নাগরিক অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে।
ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ হলেও গণনায় অনিয়মের অভিযোগ তুলেছিল জামায়াত। পরে তারা ফলাফল মেনে নেয়। দলের কিছু সমর্থক দাবি করেছেন, সুষ্ঠু গণনা হলে তাদের আসনসংখ্যা আরও বেশি হতে পারত। অন্যদিকে বিশ্লেষকরা বলছেন, সাংগঠনিক দুর্বলতাও তাদের ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে।
বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন ও দুইবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর এই বিজয় দলটির জন্য আবেগঘন অধ্যায়। ১৯৯১ ও ২০০১ সালে দলকে ক্ষমতায় আনার দুই দশক পর তার ছেলে আবারও সরকার গঠনের পথে।
দলীয় কার্যালয়ের সামনে কর্মীরা বলছেন, নতুন সরকারের প্রথম কাজ হওয়া উচিত কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ। দীর্ঘদিনের দমন-পীড়নের অবসান ঘটিয়ে উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার দাবি তুলেছেন অনেকে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই ফলাফল দেশে ডানপন্থী ঝোঁকের আশঙ্কা কিছুটা কমালেও সুশাসন, আইনশৃঙ্খলা ও অধিকারভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের চ্যালেঞ্জ বড় হয়ে সামনে এসেছে। গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হলে হতাশা তৈরি হতে পারে।
আঞ্চলিক রাজনীতিতেও এই ফলাফলের প্রভাব পড়তে পারে। পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে বিএনপির ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে, আর ভারতও জামায়াতের তুলনায় বিএনপিকে বেশি গ্রহণযোগ্য মনে করে—এমন মত বিশ্লেষকদের।
তবে গুলশানের দলীয় কার্যালয়ে সমর্থকদের কাছে এখন ভৌগোলিক রাজনীতির হিসাব নয়, বরং দীর্ঘ সংগ্রামের পর ক্ষমতায় ফেরার আনন্দই মুখ্য। তাদের আশা, নতুন অধ্যায়ে বাংলাদেশ স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্রের পথে এগোবে।
















