১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের ঐতিহাসিক জলবায়ু রায় সমর্থনে আনা খসড়া প্রস্তাব প্রত্যাহারের জন্য ভানুয়াতুর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে যুক্তরাষ্ট্র। আল জাজিরার দেখা মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কূটনৈতিক বার্তায় বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন এই প্রস্তাবের প্রতি “দৃঢ় আপত্তি” জানিয়েছে।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র ভানুয়াতু গত বছর আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের দেওয়া মতামত সমর্থনে জাতিসংঘে একটি প্রস্তাব উত্থাপনের উদ্যোগ নেয়। ওই রায়ে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তন মানবজাতির জন্য অস্তিত্বগত হুমকি এবং রাষ্ট্রগুলোর এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
মার্কিন কূটনৈতিক বার্তায় ভানুয়াতুকে খসড়া প্রস্তাব অবিলম্বে প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, আদালতের পরামর্শমূলক মতামতকে আন্তর্জাতিক আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরির ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। বার্তাটি চলতি সপ্তাহে বিশ্বের বিভিন্ন মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে পাঠানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের ১৫ বিচারক হাজার হাজার পৃষ্ঠার লিখিত উপস্থাপন ও দুই সপ্তাহের শুনানি শেষে গত বছর এই মতামত দেন। এর আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ১৩২টি দেশের সমর্থন পেয়ে ভানুয়াতু আদালতের কাছে পরামর্শমূলক মতামত চেয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ভানুয়াতুর প্রস্তাব তথাকথিত অনুমানভিত্তিক জলবায়ু মডেলের ওপর নির্ভর করে রাষ্ট্রগুলোর ওপর দায় আরোপের চেষ্টা করছে। অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা বলছেন, পরিবেশ রক্ষায় আন্তর্জাতিক আইনি দায়িত্ব স্বীকার করা রাষ্ট্রগুলোর নৈতিক ও মানবাধিকারগত কর্তব্য।
ভানুয়াতুর জাতিসংঘে স্থায়ী প্রতিনিধি ওদো তেভি জানিয়েছেন, মার্চের শেষ নাগাদ প্রস্তাবটি ভোটে তোলার লক্ষ্য রয়েছে। তিনি বলেন, আদালতের রায়ের স্পষ্টতা বৈশ্বিক জলবায়ু পদক্ষেপ ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার করবে।
ভানুয়াতুর একটি পত্রিকা জানিয়েছে, বার্বাডোস, বুরকিনা ফাসো, কলম্বিয়া, জ্যামাইকা, কেনিয়া, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ, মাইক্রোনেশিয়া, নেদারল্যান্ডস, পালাউ, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর ও সিয়েরা লিওনসহ একাধিক দেশ খসড়া প্রস্তাবকে সমর্থন জানিয়েছে। এসব দেশের অনেকেই জলবায়ু পরিবর্তনের বাড়তি ঝড় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব ইতোমধ্যে অনুভব করছে।
এদিকে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জীবাশ্ম জ্বালানি উত্তোলন বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রকে জাতিসংঘের জলবায়ু কাঠামো কনভেনশনসহ বিভিন্ন জলবায়ু সংস্থা থেকে প্রত্যাহার করেছেন। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থায় দূষণকারী জ্বালানির ওপর আরোপিত শুল্ক সমর্থনকারী কূটনীতিকদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার হুমকিও দিয়েছেন তিনি।
সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের জলবায়ু রায় ঘিরে জাতিসংঘে কূটনৈতিক টানাপোড়েন বাড়ছে, যেখানে ছোট দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর অস্তিত্ব রক্ষার প্রশ্ন ও বড় শক্তির রাজনৈতিক অবস্থান মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে।
















