বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ভারত। কয়েক দশক ধরে রাজনীতিতে প্রভাবশালী দুই নেতা শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াকে ছাড়াই এই প্রথম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বদলে যাওয়া রাজনৈতিক বাস্তবতায় ভোটাররা নতুন সূচনার প্রত্যাশায় ভোট দিচ্ছেন। এই নির্বাচনের ফল শুধু বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নয়, প্রতিবেশী অঞ্চলের ভারসাম্যেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম।
২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং সরকার গঠনে প্রয়োজন ১৫১টি আসন। শেরপুর-৩ আসনে এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোট স্থগিত রয়েছে। মোট ১২ কোটি ৭৭ লাখ নিবন্ধিত ভোটার সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে ভোট দিচ্ছেন। সকাল সাড়ে ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে এবং সন্ধ্যার পর ফল আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জাতীয় সংসদে আরও ৫০টি আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত রয়েছে। এসব আসনে সংসদ সদস্যরা আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে নারী সদস্য নির্বাচন করেন।
এটি দেশের ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে প্রথম ভোট। ওই আন্দোলনের মুখে তখনকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন। তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী খালেদা জিয়া পরের বছর মারা যান।
১৯৯১ সালের পর থেকে শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া পর্যায়ক্রমে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে শেখ হাসিনা দীর্ঘ সময় সরকার পরিচালনা করেন এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনেও জয়ী হন, যদিও পরে তাকে অপসারণ করা হয়। ফলে দীর্ঘদিনের দুই প্রভাবশালী নেতৃত্ব ছাড়াই এবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে সামনে এসেছেন তারেক রহমান। প্রায় ১৭ বছর দেশের বাইরে থাকার পর তিনি দেশে ফিরে সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থী হিসেবে উঠে আসেন। আওয়ামী লীগ এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। ফলে জামায়াতে ইসলামী বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। দলটি নিজস্ব জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছে এবং নতুন প্রজন্মভিত্তিক একটি দলের সমর্থনও পেয়েছে।
সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি ভোটাররা জুলাই ন্যাশনাল চার্টার নিয়ে গণভোটে অংশ নিচ্ছেন। অন্তর্বর্তী সরকার ও কয়েকটি দল এই সনদের বিভিন্ন প্রস্তাবে একমত হয়েছে। এতে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিত করা, সংসদে উচ্চকক্ষ গঠন এবং নির্বাচন-পূর্ব তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহালের বিষয় রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচনের প্রভাব আঞ্চলিক শক্তিগুলোর ওপরও পড়তে পারে। শেখ হাসিনার আমলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দিল্লি ও ঢাকার সম্পর্কেও কিছুটা টানাপড়েন দেখা দিয়েছে।
















