ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে সশস্ত্রবাহিনীর ভূমিকা দেশজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে। কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ভোটকেন্দ্রের বাইরে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যরা স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে ভোটাররা উদ্বেগ ছাড়াই ভোট দিতে পেরেছেন বলে জানা গেছে।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। ভোট শেষে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা ছিল এবং এ দিনটি জাতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তার ভাষ্য, সকাল থেকেই দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে এবং অনুকূল পরিস্থিতি রয়েছে।
গণমাধ্যমের ভূমিকাকেও গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরায় জনগণ আশ্বস্ত হচ্ছে এবং ভোটদানে উৎসাহ পাচ্ছে।
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর একটি কেন্দ্রে ভোট দেন বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান। তিনি বলেন, নির্বাচনকে উৎসবমুখর করতে সংশ্লিষ্টরা কাজ করেছেন এবং অনেক বছর পর এমন পরিবেশ দেখা যাচ্ছে। তার মতে, দিন শেষে একটি সুন্দর নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব হবে।
তিনি জানান, বিমানবাহিনী অসামরিক প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করছে এবং বিভিন্ন এলাকায় আকাশপথ থেকেও নজরদারি রাখা হচ্ছে, বিশেষ করে দুর্গম অঞ্চলে। এখন পর্যন্ত বড় কোনো অনিয়ম বা দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান রাজধানীর একটি কেন্দ্রে ভোট দেন। তিনি বলেন, সকাল থেকেই আনন্দঘন পরিবেশে ভোট শুরু হয়েছে এবং জনগণ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারছেন। কোথাও বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
ভোটের আগের রাত থেকেই সারা দেশের কেন্দ্রগুলোতে সশস্ত্রবাহিনীর পাহারা ছিল। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে দ্রুত হস্তক্ষেপ করা হয়েছে। কয়েক স্থানে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা হলে তাৎক্ষণিকভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
নিরাপত্তা নিশ্চিতে ভোটকেন্দ্রগুলোতে বহুস্তর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে টহল ও তল্লাশি চৌকিও ছিল। সারাদেশে সশস্ত্রবাহিনী ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ সদস্য মোতায়েন ছিলেন। পাশাপাশি মাঠে দায়িত্ব পালন করেন এক হাজারের বেশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নিরাপত্তা ব্যবস্থায় মোট আট লাখের বেশি সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। এর মধ্যে সশস্ত্রবাহিনীর সদস্য এক লাখের বেশি এবং পুলিশ, আনসার, বিজিবি, কোস্টগার্ড, র্যাব ও ফায়ার সার্ভিসের বিপুলসংখ্যক সদস্য মাঠে ছিলেন।
















