মালয়েশিয়া সরকার ২০২৫ সালের জন্য বিদেশি শ্রমিকের সর্বোচ্চ সংখ্যা ২৪ লাখ ৬৭ হাজার ৭৫৬ জন নির্ধারণ করেছে। একই সঙ্গে সীমিত পরিসরে নির্দিষ্ট খাত ও উপখাতে বিদেশি শ্রমিক কোটা আবেদন পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি।
মঙ্গলবার কুয়ালালামপুরে যৌথ কমিটির বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুতিওন ইসমাইল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, কৃষি, বাগান ও খনিসহ সংশ্লিষ্ট উপখাতগুলোর জন্য “কেস বাই কেস” ভিত্তিতে আবেদন গ্রহণ করা হবে।
তিনি জানান, সেবা খাতের মধ্যে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসা, গুদামজাতকরণ, নিরাপত্তা সেবা, রেস্তোরাঁ, লন্ড্রি, স্ক্র্যাপ মেটাল, পণ্য পরিবহন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সেবা খাতেও বিদেশি শ্রমিক কোটা আবেদন করা যাবে।
নির্মাণ খাতে কেবল সরকারি প্রকল্পের জন্য আবেদন করা যাবে, আর উৎপাদন খাতে মালয়েশিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটির আওতাধীন নতুন বিনিয়োগ প্রকল্পগুলোতেই বিদেশি শ্রমিকের অনুমোদন দেওয়া হবে।
সাইফুদ্দিন বলেন, “আগে যেভাবে যে কেউ—মালিক, এজেন্ট বা অন্য কেউ—কোটা আবেদন করতে পারত, এখন আর তা হবে না। এখন কেবল নির্দিষ্ট তিন খাত ও দশটি উপখাতের প্রতিষ্ঠানই আবেদন করতে পারবে।”
তিনি ব্যাখ্যা করেন, সংশ্লিষ্ট খাতের উদ্যোক্তাদের নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত কারিগরি কমিটিতে আবেদন জমা দিতে হবে। এরপর যাচাই-বাছাই শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও মানবসম্পদ মন্ত্রীর নেতৃত্বে যৌথ কমিটিতে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, মালয়েশিয়ার ত্রয়োদশ উন্নয়ন পরিকল্পনা (১৩এমপি) অনুযায়ী বিদেশি শ্রমিকের উপস্থিতির সীমা মোট কর্মশক্তির ১০ শতাংশের মধ্যে রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে এই হার ১৫ শতাংশ।
সাইফুদ্দিন বলেন, “বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৫ শতাংশ সীমাই বহাল থাকবে। ২০২৫ সালের জন্য বিদেশি শ্রমিকের সর্বোচ্চ সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৪ লাখ ৬৭ হাজার ৭৫৬ জন। আমরা ২০২৬ সালের প্রথম বা দ্বিতীয় প্রান্তিকের মধ্যে ১০ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাজ করছি।”
















