গাজায় চলমান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগে ইসরায়েলকে তীব্রভাবে সমালোচনা করেছে কাতার। দেশটির আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি বলেছেন, ইসরায়েলি হামলার ফলে গাজা এখন “মানব বসবাসের অযোগ্য এলাকায়” পরিণত হয়েছে।
মঙ্গলবার শুরা কাউন্সিলের বার্ষিক অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে কাতারি আমির বলেন, “আমরা ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের সব ধরনের লঙ্ঘন ও আগ্রাসনের নিন্দা জানাই। বিশেষ করে গাজাকে বসবাসের অযোগ্য অঞ্চলে পরিণত করা এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তি ধারাবাহিকভাবে ভঙ্গের বিষয়টি মানবতার জন্য গভীর উদ্বেগের।”
তিনি আরও বলেন, পশ্চিম তীরে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপন ও পূর্ব জেরুজালেমে আল-আকসা মসজিদ কমপ্লেক্সকে ইহুদিকরণ প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শামিল। কাতারি আমির আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান, গাজায় চলমান হত্যাযজ্ঞের জন্য ইসরায়েলকে জবাবদিহির আওতায় আনতে এবং সেখানে সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে।
তিনি অভিযোগ করেন, “ইসরায়েল মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতারের ওপর হামলা চালিয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সব নীতি ভঙ্গ করেছে। হামাস প্রতিনিধিদলের সদস্যদের হত্যাচেষ্টা ছিল রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদের একটি উদাহরণ।”
কাতারি আমির বলেন, “আমরা এই আগ্রাসনকে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ হিসেবে বিবেচনা করি। সৌভাগ্যবশত, আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া এতটাই তীব্র ছিল যে হামলাকারীরা বিস্মিত হয়েছে।”
অন্যদিকে, ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সংগঠন হামাসও ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটির দাবি, ১০ অক্টোবর স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতির পর ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১০০ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং দুই শতাধিক আহত হয়েছেন।
হামাস জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলি জিম্মিদের মৃতদেহ ফেরত দিতে কাজ করছে, যদিও ইসরায়েলি হামলা ও ধ্বংসস্তূপের কারণে বড় ধরনের বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। এ পর্যন্ত হামাস ২০ জন জীবিত জিম্মি মুক্তি দিয়েছে এবং ১৩ জনের মৃতদেহ ফেরত দিয়েছে, যার বিনিময়ে প্রায় ২ হাজার ফিলিস্তিনি বন্দি মুক্তি পেয়েছেন।
হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম অভিযোগ করেন, ইসরায়েল বারবার যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করছে এবং গাজার জনগণের ওপর সাহায্য সরবরাহ সীমিত করে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে।
২০২৩ সালের অক্টোবরে শুরু হওয়া সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৬৮ হাজার ২০০-র বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি আহত হয়েছেন, যা গাজার ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতিকে আরও প্রকট করেছে।
















