Dhaka ০২:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

নারীর উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থান: ইসলামি দৃষ্টিকোণ ব্যাখ্যা করলেন মাওলানা শিব্বীর আহমদ

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৯:৫৮:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩২ বার দেখা হয়েছে

ইসলাম নারীদের শিক্ষাকে সীমিত করেছে কিনা কিংবা তাদের চাকরি ও কর্মসংস্থানকে অনুৎসাহিত করেছে কিনা—এমন নানা প্রশ্নের শরয়ী ব্যাখ্যা তুলে ধরেছেন জামিয়াতুল উলূমিল ইসলামিয়া ঢাকার উস্তাযুল হাদীস মাওলানা শিব্বীর আহমদ। তিনি স্পষ্ট করেছেন, ইসলাম কখনোই নারীর শিক্ষাকে অবহেলার চোখে দেখেনি; তবে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে পর্দা, নিরাপত্তা এবং পারিবারিক কাঠামোর ভারসাম্য রক্ষা করা ইসলামের মূল দাবি।

সম্প্রতি এক আলোচনায় তিনি বলেন, ইসলাম নারীদের পিছিয়ে রাখে বা তাদের শিক্ষাকে সমর্থন করে না—এমন প্রচার একেবারেই অমূলক। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরামের যুগে নারীদের পাণ্ডিত্যপূর্ণ অবদান এর বড় প্রমাণ। বিশেষ করে উম্মুল মুমিনিন হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.)-এর মতো বড় ফকিহ ও মুহাদ্দিস নারী সাহাবি ছিলেন, যিনি হাদিস বর্ণনার সূক্ষ্ম প্রেক্ষাপট তুলে ধরে অনেক বড় বড় সাহাবির বর্ণনার ত্রুটি সংশোধন করে দিতেন। ফলে ইসলামে নারীর শিক্ষা অর্জনে কোনো বাধা নেই, তবে সেখানে পর্দা ও নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকা অপরিহার্য। শরীয়তের অন্য কোনো বিধানকে বিপন্ন করে শিক্ষা গ্রহণ ইসলামে সমর্থিত নয়।

নারীদের উচ্চশিক্ষা ও চাকরি প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান যুগে উচ্চশিক্ষাকে কেবল চাকরির মাধ্যম হিসেবে দেখা হয় এবং চাকরি না করলে পড়াশোনা বৃথা মনে করা হয়। অথচ চাকরির বিষয়টি মূলত দুটি প্রেক্ষাপটের ওপর নির্ভর করে—একান্ত প্রয়োজনের খাতিরে উপার্জন এবং অতিরিক্ত প্রাচুর্যের আকাঙ্ক্ষায় ক্যারিয়ার গড়া।

তিনি প্রাচীন ফিকহের দলিলের উদ্ধৃতি দিয়ে জানান, কোনো নারীর যদি জীবিকা নির্বাহের কোনো অভিভাবক বা সংস্থান না থাকে, তবে তার উপার্জনের সুযোগ ইসলামে অনেক আগে থেকেই রয়েছে। এমনকি স্বামীর মৃত্যুর পর ইদ্দত পালনকালে যদি কোনো নারী চরম সংকটে পড়েন এবং তার ভরণপোষণের কেউ না থাকে, তবে দিনের বেলায় তার বাইরে গিয়ে হালাল উপার্জনের সুস্পষ্ট অনুমতি রয়েছে। সুতরাং ইসলাম ঢালাওভাবে নারীর উপার্জনকে নিষিদ্ধ করেনি।

তবে তিনি আধুনিক ক্যারিয়ার ভাবনার কিছু বাস্তব সংকটের দিক তুলে ধরে বলেন, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে মূলত নারীদের ব্যাপকভাবে ঘরের বাইরে আনার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। ইসলামে সৃষ্টিগতভাবেই পুরুষকে বাইরের দায়িত্ব ও ভরণপোষণের ভার দেওয়া হয়েছে এবং নারীর ওপর অর্পিত হয়েছে অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা ও মাতৃত্বের দায়িত্ব।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

নারীর উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থান: ইসলামি দৃষ্টিকোণ ব্যাখ্যা করলেন মাওলানা শিব্বীর আহমদ

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৯:৫৮:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইসলাম নারীদের শিক্ষাকে সীমিত করেছে কিনা কিংবা তাদের চাকরি ও কর্মসংস্থানকে অনুৎসাহিত করেছে কিনা—এমন নানা প্রশ্নের শরয়ী ব্যাখ্যা তুলে ধরেছেন জামিয়াতুল উলূমিল ইসলামিয়া ঢাকার উস্তাযুল হাদীস মাওলানা শিব্বীর আহমদ। তিনি স্পষ্ট করেছেন, ইসলাম কখনোই নারীর শিক্ষাকে অবহেলার চোখে দেখেনি; তবে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে পর্দা, নিরাপত্তা এবং পারিবারিক কাঠামোর ভারসাম্য রক্ষা করা ইসলামের মূল দাবি।

সম্প্রতি এক আলোচনায় তিনি বলেন, ইসলাম নারীদের পিছিয়ে রাখে বা তাদের শিক্ষাকে সমর্থন করে না—এমন প্রচার একেবারেই অমূলক। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরামের যুগে নারীদের পাণ্ডিত্যপূর্ণ অবদান এর বড় প্রমাণ। বিশেষ করে উম্মুল মুমিনিন হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.)-এর মতো বড় ফকিহ ও মুহাদ্দিস নারী সাহাবি ছিলেন, যিনি হাদিস বর্ণনার সূক্ষ্ম প্রেক্ষাপট তুলে ধরে অনেক বড় বড় সাহাবির বর্ণনার ত্রুটি সংশোধন করে দিতেন। ফলে ইসলামে নারীর শিক্ষা অর্জনে কোনো বাধা নেই, তবে সেখানে পর্দা ও নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকা অপরিহার্য। শরীয়তের অন্য কোনো বিধানকে বিপন্ন করে শিক্ষা গ্রহণ ইসলামে সমর্থিত নয়।

নারীদের উচ্চশিক্ষা ও চাকরি প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান যুগে উচ্চশিক্ষাকে কেবল চাকরির মাধ্যম হিসেবে দেখা হয় এবং চাকরি না করলে পড়াশোনা বৃথা মনে করা হয়। অথচ চাকরির বিষয়টি মূলত দুটি প্রেক্ষাপটের ওপর নির্ভর করে—একান্ত প্রয়োজনের খাতিরে উপার্জন এবং অতিরিক্ত প্রাচুর্যের আকাঙ্ক্ষায় ক্যারিয়ার গড়া।

তিনি প্রাচীন ফিকহের দলিলের উদ্ধৃতি দিয়ে জানান, কোনো নারীর যদি জীবিকা নির্বাহের কোনো অভিভাবক বা সংস্থান না থাকে, তবে তার উপার্জনের সুযোগ ইসলামে অনেক আগে থেকেই রয়েছে। এমনকি স্বামীর মৃত্যুর পর ইদ্দত পালনকালে যদি কোনো নারী চরম সংকটে পড়েন এবং তার ভরণপোষণের কেউ না থাকে, তবে দিনের বেলায় তার বাইরে গিয়ে হালাল উপার্জনের সুস্পষ্ট অনুমতি রয়েছে। সুতরাং ইসলাম ঢালাওভাবে নারীর উপার্জনকে নিষিদ্ধ করেনি।

তবে তিনি আধুনিক ক্যারিয়ার ভাবনার কিছু বাস্তব সংকটের দিক তুলে ধরে বলেন, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে মূলত নারীদের ব্যাপকভাবে ঘরের বাইরে আনার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। ইসলামে সৃষ্টিগতভাবেই পুরুষকে বাইরের দায়িত্ব ও ভরণপোষণের ভার দেওয়া হয়েছে এবং নারীর ওপর অর্পিত হয়েছে অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা ও মাতৃত্বের দায়িত্ব।