যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপদেশ পালাউ ও মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ–এর দুই নেতার ওপর দুর্নীতির অভিযোগ এনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ওয়াশিংটন অভিযোগ করেছে, তাঁদের কর্মকাণ্ড চীনের আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি করেছে।
মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, পালাউয়ের সিনেট প্রেসিডেন্ট হোকনস বাউলেস এবং মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের সাবেক মেয়র অ্যান্ডারসন জিবাস ‘গুরুত্বপূর্ণ দুর্নীতিতে’ জড়িত ছিলেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে তাঁরা এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন না।
পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট সামাজিক মাধ্যমে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন দুর্নীতি সহ্য করা হবে না। আন্তর্জাতিক মাদক ও আইন প্রয়োগবিষয়ক ব্যুরোও এ সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানায়।
বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, বাউলেস ঘুষ নিয়ে পালাউয়ে চীনা স্বার্থ সমর্থন করেছেন। অন্যদিকে জিবাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি বিকিনি অ্যাটল পুনর্বাসন তহবিল থেকে অর্থ অপব্যবহার ও ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হয়েছেন। এই তহবিলটি পারমাণবিক বোমা পরীক্ষায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় গঠিত হয়েছিল।
২০১৭ সালে তহবিলটির পরিমাণ ছিল প্রায় ৫৯ মিলিয়ন ডলার। তবে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে তা নেমে আসে প্রায় এক লাখ ডলারে, এবং ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থ প্রদান বন্ধ হয়ে যায়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, তহবিলের অর্থ ভ্রমণ, অবকাশযাপন ও ব্যক্তিগত কেনাকাটায় ব্যয় হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, এই অর্থ অপব্যবহার শুধু করদাতাদের অর্থ নষ্ট করেনি, বরং মার্শাল দ্বীপপুঞ্জে জনআস্থার সংকট তৈরি করেছে, যা চীনসহ অন্য শক্তির প্রভাব বিস্তারের সুযোগ করে দিয়েছে।
পালাউ ও মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ—উভয় দেশই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে ছিল এবং পরে স্বাধীনতা লাভ করে। বর্তমানে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মুক্ত সহযোগিতা চুক্তির আওতায় রয়েছে, যার মাধ্যমে ওয়াশিংটন ওই অঞ্চলের প্রতিরক্ষা ও সামরিক কার্যক্রমে প্রভাব রাখে।
দুটি দেশই এখনো তাইওয়ানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে, যা চীনের অসন্তোষের কারণ। বেইজিং দীর্ঘদিন ধরে ছোট দেশগুলোকে তাইপের বদলে বেইজিংকে স্বীকৃতি দিতে চাপ দিয়ে আসছে এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্য ও অবকাঠামো সহযোগিতার মাধ্যমে প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
এদিকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক চুক্তি থেকে ট্রাম্প প্রশাসনের সরে আসা ও নির্গমন কমানোর প্রচেষ্টা সীমিত করাও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপদেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি করেছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এসব দ্বীপদেশের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে ওয়াশিংটন বলছে, এ নিষেধাজ্ঞা দুর্নীতির বিরুদ্ধে জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষার অংশ। যুক্তরাষ্ট্র বৈশ্বিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান অব্যাহত রাখবে বলেও জানানো হয়েছে।
















