জিম্বাবুয়ের মন্ত্রিসভা সংবিধান সংশোধনের একটি খসড়া বিল অনুমোদন করেছে, যার মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের মেয়াদ পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে সাত বছর করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। প্রস্তাবটি পাস হলে বর্তমান প্রেসিডেন্ট Emmerson Mnangagwa ২০৩০ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে পারবেন।
৮৩ বছর বয়সী এমাঙ্গাগওয়া বর্তমানে দুই মেয়াদ শেষ করে ২০২৮ সালে পদ ছাড়ার কথা। তবে নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী তাঁর ক্ষমতায় থাকার পথ আরও দুই বছর বাড়তে পারে।
মঙ্গলবার মন্ত্রিসভায় উপস্থাপিত বিলটিতে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সরাসরি জনগণের ভোটের বদলে সংসদের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বিধান যুক্ত করা। পাশাপাশি প্রেসিডেন্টকে আরও ১০ জন সিনেটর নিয়োগের ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে, এতে সিনেটের মোট আসন দাঁড়াবে ৯০টি।
বিচারমন্ত্রী Ziyambi Ziyambi জানিয়েছেন, বিলটি স্পিকারের কাছে পাঠানো হবে এবং সরকারি গেজেটে প্রকাশের পর সংসদে আলোচনার জন্য তোলা হবে।
মন্ত্রিসভার এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এসব সংশোধনী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করবে, যাতে উন্নয়ন কর্মসূচিগুলো সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করা যায়।
এমাঙ্গাগওয়া ২০১৭ সালে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে দীর্ঘদিনের নেতা Robert Mugabe-কে অপসারণের পর ক্ষমতায় আসেন। এরপর ২০১৮ সালে নির্বাচিত হন এবং ২০২৩ সালে পুনর্নির্বাচিত হন।
ক্ষমতাসীন দল ZANU-PF ইতোমধ্যে ‘২০৩০ এজেন্ডা’ নামে মেয়াদ বৃদ্ধির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তবে বিরোধী নেতারা এই পদক্ষেপকে সংবিধান দখলের প্রচেষ্টা বলে আখ্যা দিয়েছেন।
বিরোধী নেতা জেমসন টিম্বা এক বিবৃতিতে বলেন, মন্ত্রিসভার এ অনুমোদন রাজনৈতিকভাবে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। তিনি জানিয়েছেন, ‘ডিফেন্ড দ্য কনস্টিটিউশন প্ল্যাটফর্ম’ নামে একটি জোট আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করে এই সংশোধনীর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেবে।
বিশ্লেষক ও বিরোধী নেতাদের মতে, এমন সাংবিধানিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গণভোট আয়োজন করা উচিত। বিরোধী রাজনীতিক ডেভিড কোলটার্ট বলেছেন, কোনো সংশোধনী যদি বর্তমান প্রেসিডেন্টের মেয়াদ বাড়ানোর প্রভাব ফেলে, তাহলে তা অবশ্যই গণভোটে নেওয়া উচিত।
স্বাধীনতার পর থেকে ১৯৮০ সাল থেকেই জিম্বাবুয়ে শাসন করে আসছে জানু-পিএফ। সংসদের নিম্নকক্ষে দলটির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, ফলে সংবিধান সংশোধনের মতো পদক্ষেপ গ্রহণে তাদের বড় বাধা নেই।
এদিকে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মেয়াদ বৃদ্ধির পরিকল্পনার বিরুদ্ধে বিক্ষোভের চেষ্টা হলে পুলিশ কঠোর অভিযান চালায় এবং বহু মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়। এমাঙ্গাগওয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি সহনশীলতা ও মানবাধিকার দমনের অভিযোগও রয়েছে, যদিও অর্থনীতি কিছুটা প্রবৃদ্ধি দেখালেও সাধারণ মানুষ কষ্টের মধ্যেই রয়েছে।
















