বাংলাদেশের তরুণ রাজনীতিক নাহিদ ইসলাম যখন ২০২৪ সালের আন্দোলনে “হাসিনা পদত্যাগ করো” স্লোগান তুলে জাতীয় রাজনীতির সামনের সারিতে আসেন, তখন অনেকেই তাঁকে নতুন রাজনৈতিক ধারার মুখ হিসেবে দেখেছিলেন। ছাত্রনেতা থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা—সংক্ষিপ্ত সময়েই তাঁর উত্থান ঘটে।
এখন ২৭ বছর বয়সে তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা হিসেবে নির্বাচনে লড়ছেন। কিন্তু তাঁর সবচেয়ে আলোচিত সিদ্ধান্ত হলো বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর সঙ্গে নির্বাচনী জোট।
আন্দোলন থেকে দল গঠন
নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা জাতীয় নাগরিক পার্টি দাবি করে, তারা পুরোনো দ্বিমুখী রাজনীতির বিকল্প। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ার পর এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–এর শক্তিশালী উপস্থিতির মধ্যে নতুন একটি শক্তি হয়ে ওঠার চেষ্টা করে দলটি।
তবে সাংগঠনিক দুর্বলতা ও সীমিত কাঠামোর কারণে তারা এককভাবে ৩০০ আসনে প্রার্থী দিতে পারেনি। ফলে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দেয়। আসন সমঝোতায় জাতীয় নাগরিক পার্টি পেয়েছে ৩০টি আসন, আর জামায়াত লড়ছে ২২২টিতে।
কেন এই জোট?
নাহিদ ইসলামের ভাষায়, এটি আদর্শিক নয়, নির্বাচনী সমঝোতা। তাঁর মতে, সংস্কার, দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান ও সুশাসনের প্রশ্নে দুই পক্ষের মিল আছে।
বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, জামায়াতের সংগঠন ও ভোটব্যাংক জাতীয় নাগরিক পার্টিকে মাঠে টিকে থাকতে সহায়তা করবে। আবার সমালোচকেরা মনে করেন, এতে জামায়াতই বেশি লাভবান হবে—কারণ আন্দোলনের জনপ্রিয় মুখগুলোকে পাশে পেয়ে তারা নিজেদের ভাবমূর্তি নরম করতে পারবে।
ভেতরের টানাপোড়েন
এই জোট জাতীয় নাগরিক পার্টির ভেতরেও বিভাজন তৈরি করেছে। দলটির কয়েকজন উদারপন্থী নেতা ও নারী সদস্য অভিযোগ করেছেন, দলটি প্রতিষ্ঠাকালীন প্রতিশ্রুতি থেকে সরে যাচ্ছে।
নারী ও সংখ্যালঘু অধিকারের প্রশ্নে জামায়াতের অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। যদিও নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, তাঁর দল এসব বিষয়ে আপস করবে না। তিনি বলেন, জোট সরকার গঠিত হলেও নীতিনির্ধারণ কোনো একক দলের মতাদর্শে হবে না।
নির্বাচনী সমীকরণ
বিভিন্ন জরিপে বিএনপি ও জামায়াত-নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত মিলেছে। এমন পরিস্থিতিতে ছোট দল হলেও জাতীয় নাগরিক পার্টি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, নাহিদ ইসলাম নিজ এলাকায় ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও আন্দোলনের স্মৃতিকে পুঁজি করছেন। তবে ফল খারাপ হলে তাঁর নেতৃত্ব ও দলীয় পরিচয় সংকটে পড়তে পারে।
ভবিষ্যৎ কোন পথে?
নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আগামী দশ বছরের মধ্যে দল সরকার গঠনের সক্ষমতা অর্জন করতে না পারলে তিনি রাজনীতি ছাড়বেন। তাঁর সামনে এখন বড় প্রশ্ন—তিনি কি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক শক্তি হয়ে উঠবেন, নাকি বড় মিত্রের ছায়ায় হারিয়ে যাবেন?
এই নির্বাচন শুধু ক্ষমতার লড়াই নয়; এটি নির্ধারণ করতে পারে, ২০২৪ সালের আন্দোলনের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার কার হাতে যাবে এবং বাংলাদেশের রাজনীতির কেন্দ্র কোথায় দাঁড়াবে।
















