পাকিস্তান টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার ইঙ্গিত দেওয়ার পর থেকেই ক্রিকেট অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, এই ম্যাচ না হলে আইসিসির আর্থিক ক্ষতি কতটা হতে পারে এবং এর প্রভাব পড়বে কি না ভারত ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের ওপর। একই সঙ্গে অনেকের কৌতূহল—আইসিসি আসলে কীভাবে আয় করে, সেই আয় কীভাবে ভাগ করে দেওয়া হয় এবং কেন ভারত সবচেয়ে বেশি অর্থ পায়।
আইসিসির আয়ের প্রধান উৎস
বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে আইসিসির মূল কাজ আন্তর্জাতিক ও বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট আয়োজন করা এবং সেগুলোর বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রি করা। দ্বিপক্ষীয় সিরিজ বা শুধু টিকিট বিক্রির ওপর তাদের আয় খুব বেশি নির্ভরশীল নয়। আইসিসির আয়ের পথগুলো মূলত বৈশ্বিক ও সুসংগঠিত।
প্রথমত, সম্প্রচার ও ডিজিটাল স্বত্ব। আইসিসি তাদের টুর্নামেন্টগুলোর টেলিভিশন ও ডিজিটাল সম্প্রচার স্বত্ব একাধিক বছরের জন্য বিশ্বব্যাপী বিক্রি করে। বর্তমান চক্রে এর আর্থিক মূল্য প্রায় ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার। এই খাতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে ভারত। কারণ, ভারতের সম্প্রচার সংস্থাগুলো বেশি অর্থ দেয়, আইসিসির ইভেন্টগুলো সেখানে বিপুল দর্শক টানে।
দ্বিতীয়ত, পৃষ্ঠপোষকতা ও বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব। বৈশ্বিক স্পনসররা নির্দিষ্ট কোনো দল নয়, পুরো টুর্নামেন্টে বিনিয়োগ করে। যেসব ম্যাচে দর্শক বেশি, সেসব সময়ে বিজ্ঞাপনের দামও বেশি হয়। আইসিসির ইভেন্টে ভারত–পাকিস্তান ম্যাচের মতো দর্শক টানার ক্ষমতা আর কোনো ম্যাচের নেই।
তৃতীয়ত, আয়োজক ফি ও স্থানীয় আয়। বিভিন্ন টুর্নামেন্টের আয়োজক বোর্ড আইসিসিকে নির্দিষ্ট ফি দেয় এবং টিকিট বিক্রির আয়ের একটি অংশ ভাগ করে নেয়। তবে সম্প্রচার আয়ের তুলনায় এই খাতের অবদান তুলনামূলক কম।
চতুর্থত, লাইসেন্সিং ও অন্যান্য আয়। মার্চেন্ডাইজিং, ডেটা ব্যবহার এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক লাইসেন্স থেকেও আইসিসির তহবিলে অতিরিক্ত অর্থ যোগ হয়।
এই চক্রে আইসিসির সম্ভাব্য আয়
সব মিলিয়ে ২০২৪ থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে আইসিসির নিট আয় বছরে প্রায় ৬০ কোটি মার্কিন ডলারের কাছাকাছি হতে পারে।
আয়ের বণ্টন: কে কত পায়
আইসিসি তাদের আয়ের অর্থ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ভাগ করার জন্য একটি নির্দিষ্ট সূত্র অনুসরণ করে। এই সূত্র চারটি বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল—বাণিজ্যিক অবদান, ক্রিকেটের ইতিহাস, গত ১৬ বছরের মাঠের পারফরম্যান্স এবং পূর্ণ সদস্যপদের মর্যাদা।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় বাণিজ্যিক অবদানকে। আর এই জায়গাতেই ভারত অন্যদের তুলনায় অনেক এগিয়ে।
কেন ভারতের অংশ সবচেয়ে বড়
বিশ্ব ক্রিকেটের মোট আয়ের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই আসে ভারতের বাজার থেকে। ভারতের ঘরোয়া মিডিয়া স্বত্বের মূল্যই এখন ৩০০ কোটি ডলারের বেশি। ফলে আইসিসি ভারতকে আলাদা করে কোনো সুবিধা দেয় না; বরং যেখান থেকে অর্থ আসে, গাণিতিক হিসাব অনুযায়ী সেদিকেই আয়ের বড় অংশ যায়।
আইসিসির অর্থ না পেলে কারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে
ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া নিজেদের ঘরোয়া লিগ, টিকিট বিক্রি এবং দ্বিপক্ষীয় সিরিজ থেকে বড় অঙ্কের আয় করে। আইসিসি থেকে পাওয়া অর্থ তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও, সেটি না পেলেও তারা বড় সংকটে পড়বে না।
কিন্তু পাকিস্তান, বাংলাদেশ বা শ্রীলঙ্কার মতো বোর্ডগুলোর ক্ষেত্রে চিত্র ভিন্ন। এই দেশগুলোর ক্রিকেট বোর্ড অনেকটাই আইসিসি থেকে পাওয়া অর্থের ওপর নির্ভরশীল। ফলে আইসিসির আয় বা বণ্টনে কোনো বড় পরিবর্তন হলে তাদের ওপর প্রভাব পড়ার আশঙ্কাই বেশি।
















