গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে জেফরি এপস্টিনকে ঘিরে করা এক কৌতুকের জেরে দক্ষিণ আফ্রিকান কৌতুকশিল্পী ট্রেভর নোয়ার বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সংগীত পুরস্কার অনুষ্ঠানের উপস্থাপক হিসেবে মঞ্চে দাঁড়িয়ে ট্রেভর নোয়া বলেন, বছরের সেরা গানের পুরস্কারটি শিল্পীরা প্রায় ততটাই চায়, যতটা ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড চান। এরপর তিনি বলেন, এপস্টিনের দ্বীপ আর নেই, তাই নতুন করে সেখানে বিল ক্লিনটনের সঙ্গে সময় কাটানোর জায়গা দরকার।
এই মন্তব্যের পরই ট্রাম্প তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, নোয়ার বিরুদ্ধে তার আইনজীবীদের পাঠানো হবে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, নোয়া ভুলভাবে দাবি করেছেন যে তিনি এবং বিল ক্লিনটন এপস্টিনের দ্বীপে সময় কাটিয়েছেন। তিনি একে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও মানহানিকর মন্তব্য বলে উল্লেখ করেন।
ট্রাম্প বলেন, তিনি কখনোই এপস্টিনের দ্বীপে যাননি, এমনকি এর কাছাকাছিও নন। এই মন্তব্যের আগে পর্যন্ত তাকে কেউ এ বিষয়ে অভিযুক্তও করেনি বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও লেখেন, নোয়ার উচিত দ্রুত তার তথ্য ঠিক করা, নইলে আইনি পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
ট্রাম্পের দাবি, তিনি একসময় এপস্টিনের সঙ্গে পরিচিত ছিলেন ঠিকই, তবে তার অপরাধ সম্পর্কে কোনো ধারণা ছিল না এবং ২০০৪ সালের দিকে তাদের সম্পর্ক ভেঙে যায়। এপস্টিনের ব্যক্তিগত দ্বীপে তার যাওয়ার কোনো প্রমাণ নেই এবং ভুক্তভোগীদের কেউই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেননি। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগও বলেছে, এ বিষয়ে ট্রাম্পকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ ভিত্তিহীন।
এদিকে, ২০২০ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের এক মুখপাত্র জানান, ক্লিনটন কখনোই এপস্টিনের লিটল সেন্ট জেমস দ্বীপে যাননি। তার বিরুদ্ধেও কোনো অপরাধের অভিযোগ নেই।
২০১৯ সালে নিউইয়র্কের একটি কারাগারে বিচারাধীন অবস্থায় জেফরি এপস্টিনের মৃত্যু হয়। তার বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন পাচারের অভিযোগ ছিল। তিনি ১৯৯৮ সালে ওই ব্যক্তিগত দ্বীপটি কিনেছিলেন। একাধিক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন, সেখানে তাদের পাচার করে নির্যাতন করা হয়েছিল।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ট্রাম্প একাধিক গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন। এর মধ্যে নিউইয়র্ক টাইমস ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের নাম রয়েছে। গত ডিসেম্বর তিনি বিবিসির বিরুদ্ধেও একটি বড় অঙ্কের মানহানি মামলা করেন।
ট্রেভর নোয়া দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্ম নেওয়া একজন কৌতুকশিল্পী। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের একটি জনপ্রিয় ব্যঙ্গাত্মক টেলিভিশন অনুষ্ঠানের উপস্থাপক হিসেবে সাত বছর কাজ করেছেন।
















