মালিবাগ ও খিলগাঁও এলাকায় আতঙ্ক ছড়ানো চক্রের হোতা সুজন শিকদার র্যাবের জালে
চাপাতি ও সামুরাই ঠেকিয়ে সর্বস্ব লুটে নেওয়া এই চক্রটি গ্রেফতার এড়াতে ঘনঘন স্থান ও সহযোগী পরিবর্তন করত।
রাজধানীর রামপুরা, মালিবাগ, খিলগাঁও এবং শাহজাহানপুরসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত সক্রিয় একটি দুর্ধর্ষ ছিনতাইকারী চক্রের মূলহোতাসহ দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। চক্রটি মূলত অটোরিকশায় যাতায়াতকারী যাত্রীদের টার্গেট করে চাপাতি ও সামুরাইয়ের মুখে জিম্মি করে সর্বস্ব লুটে নিত। দীর্ঘ দেড় মাসের ছায়া তদন্ত এবং শত শত সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার পর হাতিরঝিলের একটি রিকশা গ্যারেজ থেকে চক্রের হোতা সুজন শিকদার ও তার সহযোগী রুবেলকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব-৩ জানিয়েছে, এই চক্রটি অত্যন্ত ধূর্ততার সঙ্গে তাদের অপরাধ পরিচালনা করত। প্রতিটি মিশনে তারা অটোরিকশা চালক এবং সহযোগী পরিবর্তন করত যেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের সহজে শনাক্ত করতে না পারে। গত বছরের ডিসেম্বরে তিলপাপাড়ায় এবং অক্টোবরে মালিবাগে সিসিটিভি ফুটেজে তাদের ছিনতাইয়ের বীভৎস চিত্র ধরা পড়ে। মালিবাগের ঘটনায় তারা এক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে চাপাতি দিয়ে আঘাত করে সর্বস্ব ছিনিয়ে নেয়। গ্রেফতারকৃত সুজন শিকদারের বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক ও ছিনতাইসহ ১১টি মামলা রয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, চক্রের সদস্যরা নিয়মিত মাদক সেবন করত এবং রাত জেগে মানুষের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করত। সুজন শিকদার এতটাই সতর্ক ছিল যে সে নিজের কোনো স্থায়ী মোবাইল ফোন ব্যবহার করত না এবং বিভিন্ন বস্তি ও গ্যারেজে রাত কাটাত। একটি বড় অঙ্কের টাকা বা মূল্যবান সামগ্রী ছিনতাই করতে পারলেই তারা দ্রুত এলাকা পরিবর্তন করে গা ঢাকা দিত। এই চক্রের বাকি সদস্যদের ধরতে র্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
















