সিরিয়ার অন্তর্বর্তী সরকারের একমাত্র নারী মন্ত্রী হিন্দ কাবাওয়াত বলেছেন, তিনি কোনোভাবেই প্রতীকী বা সৌন্দর্যবর্ধক ভূমিকায় নেই। সামাজিক বিষয় ও শ্রমমন্ত্রী হিসেবে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নিজের কৌশল নির্ধারণের স্বাধীনতা না থাকলে তিনি এই দায়িত্বে থাকবেন না।
গৃহযুদ্ধ শেষে শান্তির পথে যাত্রা শুরু করা সিরিয়ার জন্য এই সময়টি অত্যন্ত জটিল। সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একটি অংশ সরকারের নিরাপত্তা বাহিনীর দিকেই অভিযোগ তুলেছে। এমন বাস্তবতায় প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল শারার নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।
একসময় প্রবাসে থাকা বিরোধী নেত্রী হিন্দ কাবাওয়াত স্বীকার করেছেন, রাজধানী দামেস্কে বিদ্রোহী বাহিনীর প্রবেশের পর সরকার কিছু ভুল করেছে। তবে তার ভাষায়, যুদ্ধোত্তর পরিবর্তনের সময়ে ভুল হতেই পারে। তিনি এটাও বলেন, মন্ত্রিসভায় আরও নারী নিয়োগ না দেওয়াই প্রেসিডেন্টের বড় ভুলগুলোর একটি, যদিও তাকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে ভবিষ্যতে নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়বে।
পুরুষপ্রধান এই মন্ত্রিসভায় কাবাওয়াতের দায়িত্বের পরিধি বিশাল। যুদ্ধের সময় এতিম হওয়া শিশু, বিধবা নারী, নিখোঁজদের পরিবার, বাস্তুচ্যুত লাখো মানুষের পুনর্বাসন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি—সবই তার দপ্তরের অগ্রাধিকার। জাতিসংঘের হিসাবে, সিরিয়ার ৯০ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছে, আর বিশ্বব্যাংকের মতে দেশ পুনর্গঠনে প্রয়োজন অন্তত দুই শত বিলিয়ন ডলার।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তিনি আলেপ্পো, ইদলিবসহ বিভিন্ন অঞ্চলে গেছেন, যেখানে সংঘর্ষে নতুন করে মানুষ ঘরছাড়া হয়েছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নির্যাতনের অভিযোগেও তিনি সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তবুও সমালোচকরা বলছেন, সমাজের বিভাজন দূর করতে সরকারকে আরও কার্যকর হতে হবে।
কাবাওয়াত বলেন, মানুষের আস্থা ফিরে পেতে সময় লাগছে। পাঁচ দশকের স্বৈরতন্ত্রের পর সরকার ও জনগণের মধ্যে বিশ্বাস তৈরি করা সহজ নয়। তার মতে, সংলাপই তার সবচেয়ে বড় শক্তি।
ইদলিবে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি নারীদের রাজনৈতিকভাবে আরও কৌশলী হওয়ার আহ্বান জানান। সাম্প্রতিক অন্তর্বর্তী সংসদ নির্বাচনে ইদলিব থেকে কোনো নারী নির্বাচিত না হওয়ায় তিনি নারীদের ঐক্যের অভাবের কথা তুলে ধরেন। পুরো সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব মাত্র চার শতাংশ।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, তিনি কোনো পরিচয়ের ভিত্তিতে কাজ করেন না। নিজেকে তিনি আগে একজন সিরিয় নাগরিক হিসেবে দেখেন। নারী বা ধর্মীয় পরিচয় সামনে এলে তার বৈধতা হারাবে বলেই তিনি মনে করেন।
শরণার্থী শিবির পরিদর্শনের সময় বাস্তবতার কঠিন চিত্রের মুখোমুখি হন কাবাওয়াত। ধ্বংসস্তূপে পরিণত বাড়ির মানুষগুলো দারিদ্র্য আর অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছে। সেখানে তিনি নারীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগের কথা বলেন, যদিও তাৎক্ষণিক সহায়তার ঘাটতি স্পষ্ট।
আন্তর্জাতিক সহায়তা কিছুটা বাড়লেও নিরাপত্তাহীনতা ও আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে অনেক দাতা দেশ এখনও দ্বিধায় রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলেও পুনর্গঠনের পথ দীর্ঘ।
নিজ বাসভবনে বসে কথা বলতে গিয়ে এক পর্যায়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন হিন্দ কাবাওয়াত। তিনি বলেন, মানুষের কষ্ট দেখলে নিজেকে দায়ী মনে হয়। তবুও তিনি থামতে চান না। তার ভাষায়, কান্নার সময় শেষ, আবার কাজে ফিরতে হবে।
















