ভারতের বার্ষিক কেন্দ্রীয় বাজেটে আবারও উৎপাদন খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি টেকসই রাখতে কাঠামোগত সংস্কার ও নতুন বিনিয়োগ জোরদারের অঙ্গীকার করেছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন।
নতুন অর্থবছরের বাজেটে উৎপাদন খাতে সংস্কার, শক্তিশালী আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ আধুনিক প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য জিডিপিতে উৎপাদন খাতের অবদান বর্তমান ২০ শতাংশের কম অবস্থা থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশে নেওয়া।
চলতি অর্থবছরে ভারতের অর্থনীতি প্রায় ৭ দশমিক ৪ শতাংশ হারে বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মূল্যস্ফীতি প্রায় ২ শতাংশে থাকার পূর্বাভাস রয়েছে। একই সময়ে সরকারের রাজস্ব ঘাটতি জিডিপির ৪ দশমিক ৪ শতাংশে সীমিত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বেসরকারি বিনিয়োগ ও চাহিদা বাড়াতে সরকার সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ভোগ ও আয়কর ছাড়, শ্রম আইনে সংস্কার এবং নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিদ্যুৎ খাত আংশিক উন্মুক্ত করার মতো পদক্ষেপ নিয়েছে।
বাজেটে বলা হয়েছে, ওষুধ, সেমিকন্ডাক্টর, বিরল খনিজ চুম্বক, রাসায়নিক, পুঁজি পণ্য, বস্ত্র ও ক্রীড়া সামগ্রী—এই সাতটি খাতে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো হবে। পাশাপাশি দেশের ২০০টি পুরোনো শিল্পক্লাস্টার পর্যালোচনা করা হবে।
সরকার চলতি বছরের ৫৬ দশমিক ১ শতাংশ থেকে ঋণ-জিডিপি অনুপাত কমিয়ে ৫৫ দশমিক ৬ শতাংশে নামানোর লক্ষ্য নিয়েছে। এ লক্ষ্য পূরণে নতুন অর্থবছরে রাজস্ব ঘাটতি ৪ দশমিক ৩ শতাংশে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। বন্ড বাজার থেকে মোট ১৭ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন রুপি ঋণ নেওয়া হবে।
বাজেট ঘোষণার পর শেয়ারবাজারে চাপ দেখা গেছে। ব্যাংক, অবকাঠামো, প্রতিরক্ষা ও পুঁজি বাজার খাতসহ বিভিন্ন খাতে দরপতন হয়েছে।
অবকাঠামো খাতে নতুন অর্থবছরে ১২ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন রুপি ব্যয়ের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় বেশি। সরকারের আশা, এতে প্রবৃদ্ধি আরও জোরদার হবে।
এদিকে আর্থিক খাত সংস্কারের জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই কমিটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিদেশি বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিধি পর্যালোচনা করবে, যাতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ভারতীয় বাজারে প্রবেশ সহজ হয়।
করপোরেট বন্ড বাজার শক্তিশালী করতে নতুন কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মোট রিটার্ন সুয়াপ চালু করা এবং পৌর বন্ডের মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহে প্রণোদনা। একই সঙ্গে ফিউচার ও অপশন লেনদেনে কর বাড়ানো হয়েছে, যাতে শেয়ার ডেরিভেটিভ বাজারের অতিরিক্ত জল্পনা কমানো যায়।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, দেশ দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার বদলে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথে এগোচ্ছে। তার মতে, আগামী ২৫ বছর ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা দেশকে উন্নত অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্য পূরণে সহায়ক হবে।
বিশ্ব বাণিজ্যে চাপের মুখে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সমঝোতার মাধ্যমে ভারতের অর্থনীতি চাঙ্গা রাখার কৌশল নিয়েছে সরকার।
















