অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ১০ দফা প্রস্তাবনা; বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে নতুন সরকারের চ্যালেঞ্জ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা এখন তুঙ্গে থাকলেও একটি নির্বাচিত সরকারের কাছে জনগণের প্রধান প্রত্যাশা হলো—অর্থনীতিকে রাজনীতির দুষ্টচক্র থেকে মুক্ত করা। বিগত দেড় দশকের লুটেরা অর্থনীতি এবং পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালীন অস্থিরতায় দেশের বেসরকারি খাত বর্তমানে গভীর সংকটে। এই প্রেক্ষাপটে নতুন সরকারকে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিন থেকেই অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে কঠোর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে।
১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর এই বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিগত আওয়ামী শাসনামলে ব্যাংক লুটপাট ও অর্থ পাচারের মাধ্যমে অর্থনীতিকে ফোকলা করে দেওয়া হয়েছিল। ৫ আগস্টের পর অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ব্যাংকিং খাতে কিছু শৃঙ্খলা ফিরলেও উচ্চ সুদের হার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি বিনিয়োগের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ‘মব সন্ত্রাস’, চাঁদাবাজি এবং ঢালাওভাবে ব্যবসায়ীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করার ফলে বেসরকারি খাতে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে রপ্তানি কমেছে এবং বেকারত্ব বেড়েছে। এই সংকট উত্তরণে রাজনৈতিক পরিচয় না খুঁজে প্রকৃত উদ্যোক্তাদের আস্থায় নেওয়া এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা এখন সময়ের দাবি।
নতুন সরকারের জন্য অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ১০টি জরুরি পদক্ষেপের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে: ১. ব্যবসায়ীদের রাজনৈতিক পরিচয়ে বিচার না করে বেসরকারি খাতকে আস্থায় আনা। ২. দ্রুত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ৩. রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠা দুর্নীতি বন্ধ করা। ৪. পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া। ৫. আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা। ৬. আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে বিনিয়োগবান্ধব নীতি ও ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালু করা। ৭. ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে (SME) বিশেষ সহায়তা দেওয়া। ৮. ব্যবসাবান্ধব প্রশাসন গড়ে তোলা। ৯. নারী উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং ১০. একক পোশাক শিল্পের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনা। এই পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন করতে পারলে দেশের মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধি সম্ভব হবে।
















