ইরাকের সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ শিয়া জোট আবারও দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী নুরি আল-মালিকিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ফিরিয়ে আনার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরাকের প্রতি মার্কিন সমর্থন প্রত্যাহারের হুমকি দিলেও এই অবস্থান থেকে সরে আসেনি জোটটি।
শনিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে শিয়া রাজনৈতিক জোট কোঅর্ডিনেশন ফ্রেমওয়ার্ক জানায়, তারা প্রধানমন্ত্রী পদে নিজেদের মনোনীত প্রার্থী নুরি কামেল আল-মালিকির প্রতি পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে। একই সঙ্গে তারা বলেছে, প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন ইরাকের একান্ত নিজস্ব সাংবিধানিক বিষয় এবং এতে কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, নুরি আল-মালিকি যদি ইরাকের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হন, তবে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করবে। এটি অন্যান্য দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের হস্তক্ষেপমূলক অবস্থানের সাম্প্রতিক উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই হুমকির জবাবে বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় আল-মালিকি যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থানকে ইরাকের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রকাশ্য হস্তক্ষেপ বলে নিন্দা জানান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো চাপের মুখে তিনি প্রধানমন্ত্রী পদের দৌড় থেকে সরে দাঁড়াবেন না।
ইরাক দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে চলেছে। ট্রাম্প প্রশাসন দেশটিতে ইরানঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব কমাতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
পঁচাত্তর বছর বয়সী নুরি আল-মালিকি শিয়া ইসলামিক দাওয়া পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতা। দুই হাজার ছয় থেকে দুই হাজার চৌদ্দ সাল পর্যন্ত তার প্রধানমন্ত্রিত্বকাল ছিল সুন্নি ও কুর্দি রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে দ্বন্দ্ব, দুর্নীতির অভিযোগ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান টানাপোড়েনের সময়কাল।
দুই হাজার চৌদ্দ সালে দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকা সশস্ত্র গোষ্ঠীর দখলে চলে যাওয়ার পর তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়তে বাধ্য হন। তবে এরপরও তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় থাকেন, স্টেট অব ল’ জোটের নেতৃত্ব দেন এবং ইরানসমর্থিত বিভিন্ন গোষ্ঠীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখেন।
ইরাকের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে। দেশটির তেল রপ্তানি থেকে প্রাপ্ত রাজস্বের বড় একটি অংশ নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে সংরক্ষিত থাকে, যা দুই হাজার তিন সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পরিচালিত আগ্রাসনের পর গড়ে ওঠা এক ব্যবস্থার অংশ।
















