সাত বছর পর ভেনেজুয়েলায় কূটনৈতিক উপস্থিতি পুনরায় চালুর লক্ষ্যে দেশটিতে পৌঁছেছেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ দূত লরা ডোগু। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, তার দল কাজ শুরু করতে প্রস্তুত।
কারাকাসে তার এই সফর এমন এক সময় হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে ধীরে ধীরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া এগোচ্ছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে ভেনেজুয়েলা তাদের তেল খাত বেসরকারিকরণের পথে হাঁটছে।
ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান গিল জানান, তিনি লরা ডোগুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এবং আলোচনায় দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, বিদ্যমান মতপার্থক্য নিরসন এবং আন্তর্জাতিক আইন ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে কূটনৈতিক সংলাপ এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে কথা হয়েছে।
২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন হয়। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরোধিতা করে আইনপ্রণেতা হুয়ান গুইদোকে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে সমর্থন দিয়েছিল।
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের তৎপরতায় নাটকীয় পরিবর্তন আসে। প্রায় এক মাস আগে মার্কিন বাহিনী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে নিকোলাস মাদুরোকে কারাকাসের প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদ থেকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যায়। বর্তমানে তিনি নিউইয়র্কের একটি কারাগারে বন্দি এবং মাদক পাচার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগের মুখোমুখি। এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে।
ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাধর রাজনীতিক ও মাদুরো ঘনিষ্ঠ দিয়োসদাদো কাবেলো জানান, মার্কিন দূতাবাস পুনরায় চালু হলে মাদুরোর সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করা হচ্ছে, তা পর্যবেক্ষণের সুযোগ পাবে ভেনেজুয়েলা সরকার।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলসম্পদকে কেন্দ্র করে নিজেদের স্বার্থের কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে। মাদুরোকে আটক করার পর অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়, যাতে রাষ্ট্রীয় তেল খাত বিদেশি, বিশেষ করে মার্কিন কোম্পানির জন্য উন্মুক্ত করা হয়।
দুই দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ দুই বিলিয়ন ডলার মূল্যের ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির একটি চুক্তি হয়েছে। একই সঙ্গে একটি সংস্কার আইন কার্যকর হয়েছে, যার মাধ্যমে তেল উৎপাদন ও বিক্রিতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো হচ্ছে এবং আইনি বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ভেনেজুয়েলার আদালতের বাইরে যাওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
নতুন আইনে সরকারের রয়্যালটি আদায়ের সীমা সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে ভেনেজুয়েলার তেল খাতে আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার কথাও জানিয়েছে।
ট্রাম্প আরও ঘোষণা দিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার আকাশসীমা পুনরায় বাণিজ্যিক ফ্লাইটের জন্য খুলে দেওয়া হবে এবং শিগগিরই মার্কিন তেল কোম্পানিগুলো দেশটিতে সম্ভাব্য প্রকল্প অনুসন্ধানে যাবে।
এদিকে দেলসি রদ্রিগেজ শত শত বন্দিকে মুক্তির লক্ষ্যে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি কারাকাসের কুখ্যাত গোপন বন্দিশালা এল হেলিকোইদে বন্ধ করে সেখানে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ে তোলার ঘোষণাও দিয়েছেন, যা দীর্ঘদিন ধরে বিরোধীদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল।
















