ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে ভোট সুরক্ষায় ভোটারদের সতর্ক থাকার বার্তা
ভোটের আগের দিন বিকাল থেকে ভোটের দিন বিকাল পর্যন্ত পাহারার আহ্বান
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা ভোটারদের উদ্দেশে ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ১১ ফেব্রুয়ারি বিকাল থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি বিকাল পর্যন্ত প্রতিটি ভোটকেন্দ্র সতর্কভাবে পাহারা দিতে হবে, যেন একটি ভোটও নষ্ট বা চুরি না হয়।
নির্বাচনি পথসভায় রূপক অর্থে তিনি বলেন, “আমার একটা হাঁসও যেন কোনো শিয়ালের বাচ্চা চুরি করতে না পারে।”
অতীত নির্বাচনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ভোটারদের বাবা-চাচাদের ভোটে একসময় তার বাবা অলি আহাদ নির্বাচিত হলেও তাকে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়নি। তার অভিযোগ, কারসাজির মাধ্যমে তাহের উদ্দিন ঠাকুরকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা ডাকবাংলো মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনি পথসভায় এসব কথা বলেন তিনি। উল্লেখ্য, বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত এই নেত্রী হাঁস প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
“আমি কথা নয়, কাজ করেছি”
রুমিন ফারহানা বলেন, তিনি বড় বড় হুমকি বা ফাঁকা বক্তব্যে বিশ্বাসী নন। বরং কাজের মাধ্যমেই তিনি রাজনীতি করে এসেছেন।
তিনি বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন তার পারিবারিক শিকড়ের জায়গা—এখানেই তার বাবা-দাদার ভিটা ও কবর রয়েছে। এই সম্পর্কের ভিত্তিতেই তিনি মানুষের সমর্থন চান। যদি এটাকে অপরাধ বলা হয়, তবে জনগণই তার বিচার করবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নির্বাচন নিয়ে আশাবাদ ও সতর্ক বার্তা
তিনি জানান, আসন্ন নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে কোনো ধরনের কারচুপি না হয়।
তার ভাষায়, এই আসনের দিকে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যম ও পর্যবেক্ষকদের নজর থাকবে। ফলে কেউ যদি ব্যালট জালিয়াতির চিন্তা করে, ভোটাররাই তার উপযুক্ত জবাব দেবেন।
হাঁস প্রতীক নিয়ে বক্তব্য
রুমিন ফারহানা হাঁস প্রতীককে উন্নয়ন, গণতন্ত্র, সততা ও সাহসের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ভোটারদের সমর্থন ও দোয়া পেলে কোনো শক্তিই হাঁস প্রতীককে হারাতে পারবে না।
মামলা ও প্রশাসন প্রসঙ্গ
একটি মামলা নিয়ে বিভিন্ন গুজব ছড়ানো হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা এসব বলে শেষে গা ঢাকা দেয়, তাদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই।
তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, তার একজন ভোটারের ক্ষতি করার আগে তাকেই আঘাত করতে হবে। প্রশাসনের সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে এবং কাউকে ভুয়া মামলায় হয়রানি করা হবে না—এমন আশ্বাসও দেন তিনি।
শেষ বক্তব্যে তিনি বলেন, এখনই বলা যায় না কে সরকার গঠন করবে। তাই অহেতুক বাড়াবাড়ি না করার পরামর্শ দেন তিনি।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণের রায় কী হবে, তা আল্লাহই ভালো জানেন—এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি বক্তব্য শেষ করেন।
















