বন্দরের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ ই-নিলাম সম্পন্ন; রাজস্ব আদায় ১১ কোটি টাকা ছাড়াল
চট্টগ্রাম বন্দরের দীর্ঘদিনের কনটেইনার জট নিরসন এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধে মাইলফলক সৃষ্টি করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস। নিজেদের ইতিহাসে এককভাবে সর্ববৃহৎ ইলেকট্রনিক নিলাম (ই-নিলাম) সফলভাবে সম্পন্ন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এই প্রক্রিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা প্রায় ২ হাজার ৮০০ টন অনাবাদি ও নিলামযোগ্য পণ্য বিক্রি করা হয়েছে। ড্রেজার স্টিল পাইপ, রাবার হোসসহ বিভিন্ন ফিটিংস ও আনুষঙ্গিক সামগ্রীর এই বিশাল স্তূপ অপসারিত হওয়ায় বন্দরের মূল্যবান জায়গা খালি হয়েছে এবং সরকারের রাজস্ব তহবিলে জমা হয়েছে বিপুল অর্থ। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ই-নিলাম প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে এই স্বচ্ছ নিলাম প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার মাধ্যমে কাস্টমস কর্মকর্তারা বন্দরের কার্যকারিতা ও গতিশীলতা বাড়ানোর অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
এই বিশাল নিলামের ফলে কাস্টমস নিলাম শেডের বড় একটি অংশ এখন সম্পূর্ণ খালি, যা বন্দরের ইয়ার্ড ব্যবস্থাপনা এবং নতুন পণ্য ওঠানামার কাজকে আরও সহজতর করে তুলবে।
রেকর্ড গড়া একক চালান
চট্টগ্রাম কাস্টমসের ইতিহাসে এর আগে কখনো একক চালানে এত বিপুল পরিমাণ পণ্য নিলামে তোলা হয়নি।
- পণ্যের বিবরণ: নিলামে বিক্রি হওয়া সামগ্রীর মধ্যে ছিল ড্রেজার স্টিল পাইপ, রাবার হোস এবং বিভিন্ন ধরণের যান্ত্রিক ফিটিংস।
- বিশাল ওজন: মোট পণ্যের ওজন ছিল প্রায় ২ হাজার ৮০০ টন।
- বন্দর ব্যবস্থাপনায় স্বস্তি: কাস্টমস কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই অনাবাদি পণ্যগুলো দীর্ঘদিন ধরে বন্দরের কন্টেইনার ইয়ার্ড দখল করে রেখেছিল, যার ফলে জট তৈরি হচ্ছিল।
রাজস্ব ও নিলাম প্রক্রিয়া
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তি এবং এনবিআর-এর নীতিমালা অনুসরণ করে অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে এই ই-নিলাম অনুষ্ঠিত হয়:
১. অংশগ্রহণ: গত ১৫ ডিসেম্বর আয়োজিত এই নিলামে দেশের মোট ১৩ জন বড় দরদাতা অংশ নেন।
২. চূড়ান্ত দর: সর্বোচ্চ দরদাতা ৯ কোটি ২৭ লাখ ৫০ হাজার টাকায় পণ্যটি কিনে নেন।
৩. মোট আদায়: পণ্যের মূল্যের সাথে প্রযোজ্য ভ্যাট (মূসক) ও আয়কর যুক্ত হয়ে সরকারি কোষাগারে মোট আদায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১ কোটি ৫৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
বন্দরে ফিরছে গতি
বন্দর সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ধরণের বড় নিলাম নিয়মিত অনুষ্ঠিত হলে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা বজায় রাখা সহজ হবে। আমদানিকারকরা সময়মতো পণ্য খালাস না করলে তা নিলাম শেডে চলে যায়। যদি নিয়মিত নিলাম না হয়, তবে গুদামে জায়গার সংকট তৈরি হয় এবং নতুন কনটেইনার রাখার স্থান কমে যায়। ই-নিলাম পদ্ধতি চালু হওয়ার ফলে এখন সিন্ডিকেটমুক্ত পরিবেশে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা অংশ নিতে পারছেন, যা সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধিতেও বড় ভূমিকা রাখছে।
চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্দরের দক্ষতা ধরে রাখতে ভবিষ্যতে অনাবাদি পণ্য জমার সাথে সাথেই তা ই-নিলামের আওতায় আনা হবে।
















