কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার বিশ্ব অর্থনীতি ও কর্মক্ষেত্রকে আমূল বদলে দেবে, তবে এই প্রক্রিয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠান ও চাকরি ধ্বংসের মুখে পড়বে বলে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি জায়ান্ট সিসকোর প্রধান নির্বাহী চাক রবিন্স।
বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সিসকো সিস্টেমসের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী চাক রবিন্স বলেন, এআইয়ের প্রভাব ইন্টারনেটের চেয়েও বড় হবে। তবে বর্তমানে এআই ঘিরে যে বিনিয়োগের জোয়ার দেখা যাচ্ছে, তা অনেকটাই ফাঁপা বুদবুদের মতো এবং বহু প্রতিষ্ঠান এই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবে না।
তিনি জানান, সিসকো এমন গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো সরবরাহ করে, যা দৈনন্দিন জীবনে এআই ব্যবহারের ভিত্তি তৈরি করছে। তবু তিনি স্বীকার করেন, এই প্রযুক্তির উত্থানের পথে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হবে।
চাক রবিন্স বলেন, এআইয়ের কারণে কিছু পেশা বদলে যাবে, আবার কিছু ক্ষেত্রে চাকরি পুরোপুরি বিলুপ্তও হতে পারে। বিশেষ করে গ্রাহকসেবার মতো খাতে কম মানুষের প্রয়োজন হবে। তবে তিনি কর্মীদের ভয় না পেয়ে প্রযুক্তিকে গ্রহণ করার আহ্বান জানান।
তার মন্তব্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণভাবে সাম্প্রতিক সময়ে এআই খাতে অতিরিক্ত বিনিয়োগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অর্থনীতি ও প্রযুক্তি জগতের অনেক শীর্ষ ব্যক্তি। জেপি মরগান চেজের প্রধান জেমি ডাইমন বলেছেন, এআই খাতে বিনিয়োগের একটি অংশ নিশ্চিতভাবেই ক্ষতিতে যাবে। একইভাবে গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেটের প্রধান নির্বাহী সুন্দর পিচাই এআই বুমে কিছু অযৌক্তিক প্রবণতার কথাও স্বীকার করেছেন।
অনেকে বর্তমান পরিস্থিতিকে নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকের ডটকম বুদবুদের সঙ্গে তুলনা করছেন। সে সময় সিসকো ছিল বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান প্রতিষ্ঠান, কিন্তু বুদবুদ ভেঙে যাওয়ার পর এর বাজারমূল্য প্রায় ৮০ শতাংশ কমে যায়। পরে প্রতিষ্ঠানটি ঘুরে দাঁড়ায় এবং বর্তমানে এনভিডিয়ার মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্বে এআই অবকাঠামো সরবরাহ করছে।
চাক রবিন্স বলেন, ইন্টারনেটের ক্ষেত্রেও একসময় বুদবুদ তৈরি হয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটিই বিশ্ব বদলে দিয়েছে। তার মতে, এআইয়ের ক্ষেত্রেও অনেক প্রতিষ্ঠান হারিয়ে যাবে, কিন্তু বিজয়ীরা সামনে এসে নতুন ব্যবহার ও প্রয়োগের পথ তৈরি করবে।
তিনি এআইয়ের বিকাশকে স্মার্টফোনের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর নতুন নতুন ব্যবহার সামনে আসবে। তবে এই প্রযুক্তির সঙ্গে ঝুঁকিও বাড়বে, বিশেষ করে সাইবার নিরাপত্তা ও অনলাইন প্রতারণার ক্ষেত্রে।
তার ভাষায়, এআই সাইবার হামলা ও অনলাইন প্রতারণাকে আরও বাস্তবসম্মত করে তুলবে। তবে প্রযুক্তি শিল্প অতীতের মতোই এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সক্ষম হবে বলে তিনি আশাবাদী।
যুক্তরাষ্ট্র ও চীন বর্তমানে এআই খাতে শীর্ষ অবস্থানে থাকলেও চাক রবিন্স মনে করেন, যুক্তরাজ্যেরও এআই পরাশক্তি হয়ে ওঠার ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, যে দেশগুলো এআইকে গ্রহণ করবে, ভবিষ্যতে তারাই এগিয়ে থাকবে।
এছাড়া তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের সম্পর্ক নিয়েও মন্তব্য করেন। তার মতে, প্রকাশ্য সমালোচনার চেয়ে ছোট পরিসরে আলোচনা করাই এই প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে বেশি কার্যকর। তিনি জানান, বর্তমান প্রশাসন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় ব্যবসায়ীদের জন্য বেশি উন্মুক্ত এবং নিয়মিত সংলাপ চলছে, যদিও সব বিষয়ে একমত হওয়া সম্ভব হয় না।
















