উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন দেশটির পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা ঘোষণা করতে যাচ্ছেন। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, শাসক দলের আসন্ন কংগ্রেসে প্রতিরক্ষা ও অর্থনীতি খাতে পাঁচ বছরের নতুন উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরা হবে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি জানায়, সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার ধারাবাহিকতার পরই এই ঘোষণা আসছে, যা ইতোমধ্যে আঞ্চলিক উদ্বেগ বাড়িয়েছে। কিম জং উন ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের নির্দেশ দিয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নবম পার্টি কংগ্রেসে এসব পরিকল্পনার বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে। এটি ২০২১ সালের পর শাসক দলের প্রথম বড় ধরনের কংগ্রেস। কিম আগেই সতর্ক করে বলেছেন, এসব পদক্ষেপ শত্রুদের জন্য তীব্র মানসিক চাপ ও হুমকির কারণ হবে।
সংবাদ সংস্থার তথ্যমতে, মঙ্গলবার বড় ক্যালিবারের বহু-নল রকেট লঞ্চার ব্যবস্থার পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণকে কিম কৌশলগত প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই অস্ত্রব্যবস্থা নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।
উত্তর কোরিয়ার দাবি অনুযায়ী, পরীক্ষায় নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রায় সাড়ে তিনশ কিলোমিটার দূরের জলসীমায় নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। সেগুলো জাপান সাগরের দিকে ছোড়া হয়, যার মধ্যে দুটি উত্তর কোরিয়ার একচেটিয়া অর্থনৈতিক এলাকার বাইরে পড়ে বলে জাপানের প্রতিরক্ষা সূত্র জানিয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, পিয়ংইয়ংয়ের উত্তর দিক থেকে একাধিক স্বল্প-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ শনাক্ত করা হয়েছে।
কিম জং উন বলেন, এই পরীক্ষার ফলাফল ও তাৎপর্য এমন শক্তির জন্য গভীর মানসিক যন্ত্রণা ও গুরুতর হুমকি হয়ে থাকবে, যারা উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক উসকানি দেওয়ার চেষ্টা করবে।
দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদ সংস্থার বিশ্লেষকদের মতে, কিম যে স্বয়ংক্রিয় ও নির্ভুল নির্দেশনাব্যবস্থার কথা বলেছেন, তা সম্ভবত এমন একটি নতুন নেভিগেশন প্রযুক্তির ইঙ্গিত দেয়, যা উপগ্রহনির্ভর সংকেত ব্যাহত করার প্রচেষ্টাও মোকাবিলা করতে পারে।
প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, পরীক্ষার সময় কিম জং উনের সঙ্গে ছিলেন তার কন্যা কিম জু অ্যায়ে এবং পার্টির শীর্ষ সামরিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির কর্মকর্তারা।
কিম স্বীকার করেন, রকেট লঞ্চার ব্যবস্থার উন্নয়ন সহজ ছিল না। তবে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক পরীক্ষা উত্তর কোরিয়ার কৌশলগত প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও কার্যকর করার ক্ষেত্রে বড় অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হবে।
















