ইরাকের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নূরি আল মালিকিকে আবার প্রধানমন্ত্রী করা হলে দেশটির প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সব ধরনের সহায়তা বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মঙ্গলবার দেওয়া এক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, আল মালিকিকে ফের নেতৃত্বে আনা ইরাকের জন্য অত্যন্ত ভুল সিদ্ধান্ত হবে। সম্প্রতি দেশটির সংসদের সবচেয়ে বড় শিয়া জোট কো-অর্ডিনেশন ফ্রেমওয়ার্ক আল মালিকিকে প্রধানমন্ত্রী পদে তাদের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয়।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, আল মালিকি ক্ষমতায় থাকাকালে ইরাক দারিদ্র্য ও চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়েছিল। তিনি দাবি করেন, এমন পরিস্থিতি আবারও তৈরি হতে দেওয়া উচিত নয়।
ট্রাম্প বলেন, আল মালিকির নীতি ও আদর্শের কারণে তিনি যদি আবার প্রধানমন্ত্রী হন, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র আর ইরাককে কোনো সহায়তা দেবে না। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা ছাড়া ইরাকের সফলতা, সমৃদ্ধি কিংবা স্বাধীনতার কোনো সম্ভাবনা নেই।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে ইরাকের রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ইরাকে ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব কমানোর ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনের সবচেয়ে কঠোর অবস্থান।
এদিকে মার্কিন প্রতিনিধিরা এক চিঠিতে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন ইরাকের অভ্যন্তরীণ বিষয় হলেও যুক্তরাষ্ট্র তার নিজস্ব স্বার্থ অনুযায়ী ভবিষ্যৎ সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক নির্ধারণ করবে।
এর আগে এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানসমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সরকারে অন্তর্ভুক্ত করা হলে ইরাকের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকিও দিয়েছে ওয়াশিংটন।
পঁচাত্তর বছর বয়সী নূরি আল মালিকি শিয়া ইসলামপন্থী দাওয়া পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতা। ২০০৬ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে তার সময়কালে সুন্নি ও কুর্দি রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে টানাপোড়েন বেড়ে যায়।
২০১৪ সালে আইএস জঙ্গিগোষ্ঠী ইরাকের বড় অংশ দখল করলে তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়েন। তবে এরপরও তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় থাকেন এবং স্টেট অব ল’ জোটের নেতৃত্ব দিয়ে ইরানঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরাকের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরনের প্রভাব রয়েছে। দেশটির তেল রপ্তানি থেকে পাওয়া অর্থের একটি বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে সংরক্ষিত রয়েছে, যা ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইরাক আগ্রাসনের পর করা একটি ব্যবস্থার অংশ।
















