বাতিল হওয়া আশ্রয়প্রার্থী স্থানান্তর চুক্তির আওতায় পাওনা অর্থ পরিশোধ না করায় যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে রুয়ান্ডা। দেশটির একজন কর্মকর্তা ও ব্রিটিশ গণমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
মঙ্গলবার নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে অবস্থিত স্থায়ী সালিশি আদালতে যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে সালিশি কার্যক্রম শুরু করে রুয়ান্ডা। চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল না করায় ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রায় ৫ কোটি পাউন্ড দাবি করা হয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রুয়ান্ডার বিচার মন্ত্রণালয়ের কারিগরি উপদেষ্টা মাইকেল বুতেরা বলেন, এই বিষয়ে কূটনৈতিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে যুক্তরাজ্যের অনড় অবস্থানের কারণে শেষ পর্যন্ত আইনি পথে যেতে বাধ্য হয়েছে রুয়ান্ডা।
এই চুক্তির আওতায় ছোট নৌকায় করে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করা কিছু আশ্রয়প্রার্থীকে পূর্ব আফ্রিকার দেশ রুয়ান্ডায় পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল অবৈধভাবে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ নিরুৎসাহিত করা। তবে বাস্তবে মাত্র চারজন স্বেচ্ছাসেবী আশ্রয়প্রার্থী রুয়ান্ডায় পৌঁছান।
২০২২ সালে তৎকালীন কনজারভেটিভ সরকারের সময় চুক্তিটি হয়। পরে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ক্ষমতায় এসে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই চুক্তিকে সম্পূর্ণভাবে বাতিল ঘোষণা করেন।
চুক্তি বাতিলের আগে যুক্তরাজ্য ইতোমধ্যে রুয়ান্ডাকে প্রায় ২৪ কোটি পাউন্ড পরিশোধ করেছিল। আরও প্রায় ৫ কোটি পাউন্ড পরিশোধের কথা ছিল, যা এখনো দেওয়া হয়নি।
স্টারমারের দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, ব্রিটিশ করদাতাদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার দৃঢ়ভাবে নিজের অবস্থান তুলে ধরবে।
এর আগে কঙ্গোর গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে সহিংসতায় এম২৩ গোষ্ঠীকে সমর্থনের অভিযোগে যুক্তরাজ্য রুয়ান্ডার জন্য আর্থিক সহায়তা স্থগিত করেছিল। রুয়ান্ডা এই পদক্ষেপকে শাস্তিমূলক বলে আখ্যা দেয়।
এই আশ্রয়প্রার্থী চুক্তি দীর্ঘদিন ধরে আইনি জটিলতায় ছিল। ২০২৩ সালের নভেম্বরে যুক্তরাজ্যের সর্বোচ্চ আদালত রায় দেয় যে চুক্তিটি আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
স্থায়ী সালিশি আদালতের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বরেই রুয়ান্ডা আন্তঃরাষ্ট্র সালিশি প্রক্রিয়া শুরু করে এবং মামলাটি এখনো বিচারাধীন রয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর থেকে যুক্তরাজ্যে অভিবাসন ইস্যু রাজনৈতিকভাবে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ২০২৪ সালে প্রায় ৩৭ হাজার এবং ২০২৫ সালে ৪০ হাজারের বেশি আশ্রয়প্রার্থী ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করে। এই ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় বহু মানুষের প্রাণহানিও হয়েছে।
ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, তারা ইতোমধ্যে ৫০ হাজার অবৈধ অভিবাসীকে দেশ থেকে সরিয়ে দিয়েছে।
গত সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স একটি নতুন অভিবাসন সমঝোতা কার্যকর করে। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই ব্যবস্থাকে অকার্যকর ও নিষ্ঠুর বলে সমালোচনা করেছে এবং বলেছে, এটি আশ্রয়ের অধিকার সীমিত করার কৌশল।
















