১৮ অক্টোবর ২০২৫
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেছেন, গত বছরের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সেনাবাহিনী “জনগণের পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল” এবং তাদের পদক্ষেপই বহু প্রাণ রক্ষা করেছে।
বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “মিরপুরে পুলিশ যখন বিক্ষোভকারীদের দিকে নির্বিচারে গুলি চালাচ্ছিল, তখন সেনাবাহিনী মাঝখানে গিয়ে উল্টো ফাঁকা গুলি ছুড়ে পুলিশকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে ছাত্রদের ওপর হত্যাযজ্ঞ বন্ধ হয়।”
তিনি আরও যোগ করেন, “রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রায় সব অংশকেই শেখ হাসিনার সরকার অপরাধ সংঘটনে ব্যবহার করেছিল। তবে সেনাবাহিনীই ছিল একমাত্র প্রতিষ্ঠান যারা সেই সময় মানবতার পক্ষে দাঁড়ায়।”
শেখ হাসিনার বিচার নিয়ে প্রসিকিউশনের শেষ যুক্তিতর্ক
চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বৃহস্পতিবার শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামালের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় প্রসিকিউশনের শেষ দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। আদালত আগামী সোমবার (২০ অক্টোবর) রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ধার্য করেছে।
তাজুল বলেন,
“আমরা আদালতে এমন প্রমাণ উপস্থাপন করেছি যা পর্বতের মতো দৃঢ় এবং হীরার মতো স্বচ্ছ। জুলাই-আগস্টে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, গুম, নির্যাতন—সবকিছুর প্রমাণ আমরা স্পষ্টভাবে দেখাতে পেরেছি। এসব অপরাধ মানবতাবিরোধী, এবং এর সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়াই ন্যায়সঙ্গত।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন,
“এই বিচার কোনো প্রতিশোধ নয়, এটি ইতিহাসের হিসাব মেলানো এবং ভবিষ্যতের স্বৈরশাসকদের জন্য সতর্কবার্তা।”
সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে ইতিবাচক বার্তা
প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টে যখন পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংসতা চালাচ্ছিল, সেনাবাহিনী তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাদের সংযম ও মানবিক পদক্ষেপই বহু হতাহতের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করেছে।
“আমাদের সেনাবাহিনী জনগণের প্রিয় প্রতিষ্ঠান। রাস্তায় দেখলে মানুষ তাদের বুকে জড়িয়ে ধরে—এটাই প্রকৃত দেশপ্রেমের প্রতিচ্ছবি,”
তিনি বলেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সেনাবাহিনীর এই অবস্থান দেশটির রাজনীতি ও সামরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি মোড় ঘুরিয়ে দেয়, কারণ দীর্ঘদিন পর তারা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের বদলে গণআন্দোলনের পাশে দাঁড়ায়।
তাজুল ইসলাম বলেন,
“আমাদের লক্ষ্য ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা নয়, বরং আইনের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। যদি এই প্রমাণ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ICC)-এও উপস্থাপন করা হয়, সেখানেও সর্বোচ্চ দণ্ড নিশ্চিত হতো।”
তিনি আশা প্রকাশ করেন যে এই রায় কেবল অতীতের অপরাধের বিচার নয়, বরং ভবিষ্যতের জন্যও এক স্থায়ী বার্তা দেবে—“বাংলাদেশে আর কোনো শাসক যেন নিজের জনগণের বিরুদ্ধে অস্ত্র না তোলে।”
















