১৮ অক্টোবর ২০২৫
২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, ঐকমত্য কমিশনের সদস্য এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা “জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫”-এ স্বাক্ষর করেন। এই সনদটি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে গৃহীত হয় এবং দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক কাঠামোর ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অঙ্গীকারনামার মূল বিষয়গুলো:
- গণআন্দোলনের স্বীকৃতি ও বাস্তবায়ন: ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে জনগণের আত্মত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত রাজনৈতিক সমঝোতার ভিত্তিতে গৃহীত এই সনদ পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
- সাংবিধানিক সংযুক্তি: জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন হিসেবে এই সনদকে সংবিধানে তফসিল বা অন্য উপযুক্ত উপায়ে অন্তর্ভুক্ত করার অঙ্গীকার করা হয়েছে।
- আইনি সুরক্ষা: সনদের বৈধতা নিয়ে কোনো আদালতে প্রশ্ন তোলা হবে না এবং প্রতিটি ধাপে আইনি ও সাংবিধানিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।
- গণঅভ্যুত্থানের স্বীকৃতি: ১৬ বছরের গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানকে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হবে।
- বিচার ও পুনর্বাসন: গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকারদের বিচার, শহীদদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা, পরিবারদের সহায়তা এবং আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে।
- প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার: সংবিধান, নির্বাচন, বিচার, প্রশাসন, পুলিশ ও দুর্নীতি দমন ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার আনতে আইন ও বিধি সংশোধনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
- তাৎক্ষণিক বাস্তবায়ন: যেসব সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর করা সম্ভব, সেগুলো দ্রুততম সময়ে বাস্তবায়নের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই সনদটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।
















