মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সিত্ত্বে টাউনশিপে মুসলমানদের মাছ ধরায় কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সামরিক জান্তা। সাম্প্রতিক মিলিশিয়া প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের পর নিরাপত্তাজনিত অজুহাতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার ফলে বহু মুসলমান পরিবার এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে আরাকান আর্মি ও জান্তা বাহিনীর মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর উপকূলীয় এলাকায় মাছ ধরার সুযোগ হারান স্থানীয় জেলেরা। আগে সীমিত পরিসরে হলেও মুসলমান জেলেদের মাছ ধরার অনুমতি ছিল। তবে জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকে সিত্ত্বে টাউনশিপে মুসলমান জেলেদের সম্পূর্ণভাবে মাছ ধরা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
থায়ে চাউং গ্রামের এক জেলে জানান, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে তিনি সাগরে নামতে পারছেন না। নৌবাহিনীর টহল দল সমুদ্রে বের হতে বাধা দিচ্ছে এবং সেনাবাহিনী থেকে পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কার কথা বলে মুসলমানদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও জীবিকার তাগিদে কিছু নৌকা গোপনে মাছ ধরছে বলে জানা গেছে। তবে এসব নৌকার ওপর নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে গুলি চালানোর ঘটনাও ঘটেছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এক জেলে বলেন, মাছ না ধরতে পারলে বাঁচা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। কেউ কেউ রাতের আঁধারে ঝুঁকি নিয়ে সাগরে যাচ্ছে, গুলির ভয় নিয়েই তাদের এই চেষ্টা।
কিছু এলাকায় অবশ্য নির্দিষ্ট অর্থ পরিশোধের শর্তে মুসলমান জেলেদের মাছ ধরার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিটি নৌকার জন্য দেড় লাখ কিয়াত ঘুষ দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। এক ভুক্তভোগী জেলে জানান, চলতি মাসের ১২ তারিখে তাঁকেও এ অর্থ দিতে হয়েছে।
সিত্ত্বের আশপাশে আরাকান আর্মি ও জান্তা বাহিনীর তীব্র সংঘর্ষের পর নিরাপত্তার অজুহাতে আরাকানি ও মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের জেলেদের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। তবে বাস্তবে মুসলমানদের ওপর কড়াকড়ি বেশি বলে অভিযোগ উঠেছে।
শহরে যাতায়াতও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। সিত্ত্বে থেকে ইয়াঙ্গুনে বিমান চলাচল ছাড়া অন্য টাউনশিপে যাওয়ার পথ কার্যত বন্ধ। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে গেছে এবং খাদ্যসংকট তীব্র হচ্ছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।
এক মারামা গ্যি নারী বলেন, ভয় আর অনিশ্চয়তায় মানুষ সন্ধ্যার পর ঘর থেকে বের হতে চায় না। খাদ্যের অভাবে অনেকে দিনের বেলাতেও লুকিয়ে বাইরে বের হচ্ছে। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে জীবনধারণ আরও কঠিন হয়ে উঠবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
















