গুলশান-বনানীর অভিজাত ভবন থেকে কড়াইল বস্তি—উত্তাপ এখন সর্বত্র
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ (গুলশান-বনানী-কড়াইল) আসনটি এখন সারা দেশের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। ১৭ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে দেশে ফেরার পর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজেই এই আসনে প্রার্থী হওয়ায় আগের সব রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ পাল্টে গেছে। আগামীর সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রীর লড়াইয়ে নামার খবরে নড়েচড়ে বসেছেন বিত্তশালী ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে কড়াইল বস্তির শ্রমজীবী মানুষও।
১৮ জানুয়ারি ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতীক বরাদ্দের আগেই নির্বাচনি ডামাডোল শুরু হয়ে গেছে এই আসনে। একদিকে অভিজাত এলাকার নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রশ্ন, অন্যদিকে কড়াইল ও সাততলা বস্তির মানুষের জীবনমান উন্নয়নের আশা—সব মিলিয়ে ঢাকা-১৭ এখন এক রোমাঞ্চকর নির্বাচনি যুদ্ধের অপেক্ষায়।
ভোটের মাঠের শক্তিমত্তা ও বর্তমান চিত্র
- তারেক রহমানের এন্ট্রি: মাসখানেক আগেও এখানে বিএনপির একাধিক প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছিল। কিন্তু তারেক রহমান প্রার্থী হওয়ার পর স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে অভাবনীয় উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। গুলশানে তাঁর রাজনৈতিক কার্যালয়ে প্রতিদিন হাজারো কর্মীর ভিড় জমছে। বিএনপি নেতা আবদুস সালামকে প্রধান করে একটি শক্তিশালী নির্বাচন পরিচালনা কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
- জামায়াতের অনড় অবস্থান: জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. খালিদুজ্জামান আগে থেকেই এই আসনের অলিগলি চষে বেড়াচ্ছেন। শুরুতে বিজেপি সভাপতি আন্দালিব রহমান পার্থ প্রার্থী হওয়ায় জামায়াত কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও, তারেক রহমানের আগমনে তারা শক্ত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। তবে জামায়াত নেতাদের দাবি, তরুণ ভোটার ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের স্লোগানে তাঁরাই শেষ হাসি হাসবেন।
- অন্যান্য প্রার্থী: জাতীয় পার্টির (জেপি) প্রার্থী হিসেবে তপু রায়হান (বাইসাইকেল প্রতীক) লড়াইয়ে আছেন। এছাড়া কামরুল হাসান নাসিম ও কাজী এনায়েত উল্লাহও নির্বাচনি মাঠে রয়েছেন।
ভিন্ন মেরুর ভোটারদের ভিন্ন প্রত্যাশা
| ভোটার শ্রেণি | প্রধান এলাকা | মূল প্রত্যাশা |
| অভিজাত শ্রেণি | গুলশান, বনানী, বারিধারা | সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা, দূষণমুক্ত পরিবেশ ও ব্যবসা-বান্ধব নীতি। |
| শ্রমজীবী/বস্তিবাসী | কড়াইল, সাততলা, ভাষানটেক | উচ্ছেদ আতঙ্ক বন্ধ, অগ্নিকাণ্ড রোধে স্থায়ী সমাধান ও জীবনমান উন্নয়ন। |
| তরুণ ভোটার | পুরো আসন | যুগোপযোগী কর্মসংস্থান ও মেধা পাচার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ। |
আগামীর কাণ্ডারি নিয়ে সাধারণের ভাবনা
কড়াইল বস্তির চা বিক্রেতা আবদুস সামাদ জানান, “এখানে এখন সবার মুখে তারেক রহমানের নাম। কারণ তিনি জিতলে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেবেন, আর বড় নেতা এমপি হলে এলাকার উন্নয়নও বেশি হবে।” অন্যদিকে, বনানীর প্রবীণ ভোটাররা গুরুত্ব দিচ্ছেন এলাকার নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতির ওপর।
নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পরপরই দেশব্যাপী প্রচারণা শুরু করবেন তারেক রহমান। সিলেট থেকে শুরু হওয়া এই প্রচারণা ঢাকা-১৭ আসনে এসে পূর্ণতা পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ৩ লাখ ৩৩ হাজার ভোটারের এই আসনে শেষ পর্যন্ত ধানের শীষের জোয়ার নাকি দাঁড়িপাল্লার আত্মবিশ্বাস জয়ী হয়, তা দেখতে মুখিয়ে আছে পুরো দেশ।
















