বাংলাদেশে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে দেশজুড়ে ভোট বর্জনের আহ্বান জানিয়েছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ। দলটির নেতারা বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নিতে না দিয়ে একতরফা ও নিয়ন্ত্রিত ভোট আয়োজন করছে।
২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার পতনের পর থেকে নির্বাসনে থাকা আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব শুক্রবার নির্বাচনের বিরুদ্ধে অবস্থান আরও কঠোর করে। দলের সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী ও মুখপাত্র মোহাম্মদ এ আরাফাত ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে জনগণ, দলীয় নেতা কর্মী ও সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, এই ফ্যাসিবাদী বর্জনের প্রতিবাদ জানাতে হলে সম্পূর্ণভাবে নির্বাচন বর্জনই একমাত্র পথ। তার দাবি, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার একটি একপেশে ও সাজানো নির্বাচন আয়োজন করছে, যা ভবিষ্যতে বাতিল হয়ে যাবে।
নয়াদিল্লিতে ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া ও ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব প্রেস ক্লাবসের উদ্যোগে আয়োজিত ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে আরাফাত আরও বলেন, বাংলাদেশের জনগণের কণ্ঠস্বর আন্তর্জাতিক মহলে পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন এবং প্রকৃত গণতন্ত্র ফিরবে কেবল অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমেই।
সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার একটি অডিও বার্তাও প্রচার করা হয়। সেখানে তিনি ইউনূস সরকারকে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেন এবং জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সংবিধান পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানান।
শেখ হাসিনা বলেন, অবৈধ ইউনূস প্রশাসন অপসারণের মাধ্যমেই প্রথমে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে। এরপর রাস্তায় চলমান সহিংসতা বন্ধ, সংখ্যালঘু, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার অবসান এবং সাংবাদিক ও বিরোধী নেতাদের হয়রানি বন্ধ করার দাবি জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, গত এক বছরের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে জাতিসংঘের মাধ্যমে নতুন ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন, যাতে দেশে স্থিতিশীলতা ও আস্থা ফিরে আসে।
আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করছেন, দলকে নিষিদ্ধ করে নির্বাচন আয়োজন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তাই তারা ভোট বর্জনের মধ্য দিয়ে এই নির্বাচনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করতে চান।
উল্লেখ্য, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে নিষিদ্ধ করেছে, ফলে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে দেশ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্ক আরও তীব্র হচ্ছে।
















